আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে ভোটের মাঠের খোঁজ নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠের পরিস্থিতি জানতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডেকেছে সংস্থাটি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা যায়, এই সভা থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটের মাঠের আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি জানবে নির্বাচন কমিশন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে পরবর্তী সময়ে কমিশন সভা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে ইসি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার এজেন্ডা হলো আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন। একটা তো চূড়ান্তই (ঠাকুরগাঁও-১) আছে আর স্থানীয় নির্বাচনটা চূড়ান্ত করব। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ। তাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। তাদের তথা শুনব। তাদের কাছ থেকে যে তথ্য-উপাত্ত পাব বা মিটিংয়ে তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে তার ভিত্তিতে পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশন ‘কমিশন সভা’ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।
ভোটের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় ইনপুট পাওয়ার ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে। বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত হিসেবেই প্রাথমিকভাবে পাঁচ ধাপ ও দুটি রিজার্ভ ধাপের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যেন সংশ্লিষ্টরা নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুছিয়ে কমিশনকে জানাতে পারেন।
অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের (৩) ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নম্বর-৫২০) অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে ওই সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।
সভায় উপস্থিত থাকার জন্য যাদের চিঠি দিয়েছে ইসি : মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক বা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর পরিচালক বা উপযুক্ত কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই ও এনটিএমসির মহাপরিচালক, ডাক অধিদফতর ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের হেড অব বাংলাদেশকে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধানদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন।
এরপর আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে করবে নির্বাচন কমিশন। সেখানে ভোটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ করবে সংস্থাটি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩ ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। চিঠিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার-ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি ও র্যাবের মহাপরিচালক এবং এসবি, ডিবি ও সিআইডির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এরপর সবশেষে আগামী ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর তিন ধাপে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দলগুলোর কাছে সহযোগিতা চাইবে ইসি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব এবং এই আলোচনাটা আমরা তিন ধাপে সম্পন্ন করব। চলতি মাসে ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এই তিন ধাপে আমরা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাব। যাতে তারা দুজন করে প্রতিনিধি পাঠায়। তিনি আরও বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করার আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সহযোগিতা কামনা করা। যাতে করে আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে রকমভাবে সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গণ্ডগোল ছাড়া সম্পন্ন করতে পেরেছি, সেভাবে যেন আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা শুরু করতে পারি এবং শেষ করতে পারি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মারা যায়। অনেক সহিংসতা হয়। এবার যাতে কম মারা যায় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী এবং তাদের লোকজন যেন কোনো হাঙ্গামা না করে— এ বিষয়ে সবাই যাতে সহনশীলতার পরিচয় দেয় সে জন্য সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসব। তাদের কাছে সহযোগিতা চাইব।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই তফসিল দিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি ভোট শুরু করতে চায় ইসি। ইতিমধ্যে সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে মধ্য নভেম্বর থেকে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা