ইংলিশ ফুটবলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ গোলরক্ষক কেভিন মিলার মারা গেছেন ৫৭ বছর বয়সে। চার দশকের ক্যারিয়ারে ৭৩৮টি পেশাদার ম্যাচ খেলা এই ইংলিশ গোলরক্ষকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে তার সাবেক ও বর্তমান ক্লাবগুলো।
মৃত্যুর সময় মিলার উইগান অ্যাথলেটিকের প্রথম দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি গ্রীষ্মেই ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন এই সাবেক গোলরক্ষক।
উইগান অ্যাথলেটিক এক বিবৃতিতে জানায়, ক্লাবে মিলারের সময়টা খুব সংক্ষিপ্ত হলেও দলের সবার ওপর তিনি গভীর প্রভাব রেখে গেছেন। গোলরক্ষক হিসেবে তার অভিজ্ঞতা, পেশাদারত্ব ও কাজের প্রতি নিবেদন যেমন স্পষ্ট ছিল, তেমনি প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক ব্যক্তিত্বও সহকর্মীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।
মিলারের পেশাদার ফুটবলে উত্থান শুরু হয় এক্সেটার সিটির হয়ে। এর আগে কর্নওয়ালের নন-লিগ ফুটবলে নিউকোয়ে ও ফ্যালমাথ টাউনের হয়ে খেলেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে এক্সেটারের জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তার।
এক্সেটার সিটির হয়ে দুই দফায় মোট ২৫২ ম্যাচ খেলেছেন মিলার। প্রথম দফায় প্রায় ২০০ ম্যাচে ক্লাবটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। তার সময়ে চতুর্থ স্তরের লিগ শিরোপাও জিতেছিল এক্সেটার।
এরপর বার্মিংহাম সিটি ও ওয়াটফোর্ডে খেলেন মিলার। ১৯৯৭ সালে প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন ক্রিস্টাল প্যালেসে। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্যালেসের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের ৩৮টি ম্যাচেই মাঠে নামেন তিনি।
সেই মৌসুমে ক্রিস্টাল প্যালেস অবনমিত হলেও ক্লাব ছাড়েননি মিলার। চ্যাম্পিয়নশিপে পরের মৌসুমেও দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে যোগ দেন বার্নসলিতে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের আরও কয়েকটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন মিলার। ক্রিস্টাল প্যালেস, এক্সেটার সিটির পাশাপাশি ব্রিস্টল রোভার্স, সাউদাম্পটন ও টরকোয়ে ইউনাইটেডের জার্সিও পরেছেন তিনি। সব মিলিয়ে পেশাদার ফুটবলে তার ম্যাচসংখ্যা ৭৩৮।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়েও যুক্ত হন মিলার। এক্সেটার সিটিতেও কোচ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে উইগান অ্যাথলেটিকের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিলেও সেখানে বেশিদিন কাজ করার সুযোগ হলো না তার।
সময়ের আলো/টিকে