এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের হারের ধারা অব্যাহত। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও বড় ব্যবধানে হারল আফিদা খন্দকারের দল। বৃহস্পতিবার নাগাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জালে গেছে ১৬ গোল।
১৯ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও নারী ফুটবলের ম্যাচ শুরু হয়েছে আগেই। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলের পর এবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ব্যবধান কিছুটা কমলেও ম্যাচের ফলাফলে স্বস্তির সুযোগ নেই বাংলাদেশের।
দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী নারী ফুটবল দল। সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করলেও এবার বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল ২-০ গোলে। প্রথমার্ধে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা এবং শট অন টার্গেটেও দেখা গেছে উন্নতি।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে দক্ষিণ কোরিয়াকে এগিয়ে দেন কিম মিন-জি। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে লাফিয়ে হেড করেন তিনি। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা বলের নাগাল না পাওয়ায় গোলরক্ষক রুপ্না চাকমার পক্ষেও তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
একাদশে ফিরে রুপ্না অবশ্য পরে বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করেছেন। অন্যদিকে ঋতুপর্ণা চাকমাও বল নিয়ে কয়েকবার কোরিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে মাঝমাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাংলাদেশের আক্রমণ খুব বেশি দূর এগোয়নি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের মাঝখান দিয়ে থ্রু বল পেয়ে কোরিয়ান ফরোয়ার্ড গোল করেন। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা অফসাইডের দাবি তুললেও শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকে। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর অবশ্য আর প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬৫ মিনিটে তৃতীয় গোলের পর নিয়মিত বিরতিতে আরও তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় দক্ষিণ কোরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশও একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল। বক্সের ভেতর থেকে সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর কোনাকুনি শট অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
গ্রুপে বাংলাদেশের আর একটি ম্যাচ বাকি। ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে মাঠে নামবে ঋতুপর্ণারা। গত বছর মিয়ানমারকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান গেমসে দুই কোরিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করার পর দলের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সময়ের আলো/টিকে