লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—দুজনই ইউরোপ ছাড়ার পর নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন দুই মহাদেশ। মেসি যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে, আর রোনালদো পাড়ি জমান সৌদি আরবের আল নাসরে। এরপর দুই ক্লাবই তারকাদের ঘিরে বড় বিনিয়োগ করেছে। তবে শিরোপার হিসাবে এখন পর্যন্ত এগিয়ে ইন্টার মায়ামি।
মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো। খেলোয়াড়দের বেতনসহ মোট ব্যয়ও ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর নিচে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সময়ে মায়ামির হয়ে মেসি একাধিক শিরোপা জিতেছেন। ২০২৬ সালে ক্রুজ আজুলকে হারিয়ে ক্যাম্পিওনেস কাপ জিতলে ক্লাবটির শিরোপার সংখ্যা পাঁচে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে রোনালদো আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটি দল গঠনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। শুধু খেলোয়াড় কিনতেই এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪৬ মিলিয়ন ইউরো খরচ হয়েছে বলে হিসাব দেওয়া হয়েছে। রোনালদোসহ খেলোয়াড়দের বেতন যোগ করলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় দেড় বিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই বড় বিনিয়োগের পর রোনালদোর সময়ে আল নাসর দুটি শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ এবং ২০২৫-২৬ মৌসুমের সৌদি প্রো লিগ। সাত বছর পর সৌদি লিগের শিরোপা জিতেছে আল নাসর।
তবে লিগ শিরোপা জয়ের পরও ব্যক্তিগত স্বীকৃতিতে রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেছেন তার ক্লাব সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ২০ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট করে সৌদি প্রো লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড। ভোটে তিনি সতীর্থ রোনালদোকেও পেছনে ফেলেন।
অন্যদিকে, মেসি যোগ দেওয়ার আগে ইন্টার মায়ামি কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। তার আগমনের পর ক্লাবটির সাফল্যের তালিকায় একাধিক ট্রফি যোগ হয়েছে। একই সময়ে মায়ামির বাণিজ্যিক মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফলে মেসি ও রোনালদোর নতুন ক্লাবে যাত্রার তুলনায় দুটি ভিন্ন চিত্র দেখা যায়—একদিকে তুলনামূলক কম দলীয় বিনিয়োগে ইন্টার মায়ামির একাধিক শিরোপা, অন্যদিকে বিপুল ব্যয়ে দল সাজিয়ে আল নাসরের দুটি ট্রফি। মাঠের সাফল্য ও বিনিয়োগের হিসাব—দুই দিক থেকেই তাই মেসি-রোনালদোর ক্লাব অধ্যায় নিয়ে তুলনা নতুন করে আলোচনায়।
সময়ের আলো/কেএইচও