কারাবাও কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে ব্রাইটনের বিপক্ষে দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। নিজেদের ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া করার পর শেষ বাঁশিতে সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয়েছে রেড ডেভিলদের।
তিন দিন আগেই ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সিটির কাছে বিতর্কিত এক গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড। সেই ম্যাচে ১০ জনের সিটির বিপক্ষে হারের পর এবার ব্রাইটনের বিপক্ষেও ঘরের মাঠে জিততে পারল না তারা। ফলে ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বাড়ল।
এই হারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি বিব্রতকর পরিসংখ্যানও। প্রিমিয়ার লিগ যুগে, অর্থাৎ ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ঘরের মাঠে দুই গোলের লিড নিয়েও কোনো ম্যাচে হারের ঘটনা এবারই প্রথম ইউনাইটেডের। সবশেষ এমন হার এসেছিল ১৯৭৬ সালে, টটেনহ্যামের বিপক্ষে ৩-২ গোলে।
ব্রাইটনের বিপক্ষে অবশ্য দারুণভাবেই শুরু করেছিল ইউনাইটেড। ম্যাচের শুরুতেই একাডেমির খেলোয়াড় শিয়া লেসি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমবারের মতো ইউনাইটেডের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই গোলের দেখা পান এই তরুণ। গোলের পর ক্লাবের ব্যাজে চুমু দিয়ে উদযাপনও করেন তিনি।
১০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসন মাউন্ট। দুই গোলের লিড নিয়ে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ইউনাইটেডের হাতেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ম্যাচের নাটকীয় মোড়।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে চারালামপোস কোস্তুলাসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে আনে ব্রাইটন। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সফরকারীরা। ইউনাইটেডের রক্ষণ সেই চাপ সামলাতে পারেনি। পাসকাল গ্রসের গোলে সমতা ফেরায় ব্রাইটন।
এরপর বদলি হিসেবে নামা ম্যাক্সিম দে কুইপার গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাইটন। দুই গোলের লিড থেকে ইউনাইটেড তখন ৩-২ গোলে পিছিয়ে। সেই গোলের পর ওল্ড ট্রাফোর্ডজুড়ে শুরু হয় সমর্থকদের তীব্র দুয়ো।
শেষ বাঁশির পরও থামেনি ক্ষোভ। গত মৌসুমে গ্রিমসবির কাছে হারের পর এবারও কারাবাও কাপে ঘরের মাঠে হতাশাজনক বিদায় নিল ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগেও চার ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩তম স্থানে থাকা দলটির জন্য এই হার নতুন করে চাপ বাড়াল।
সময়ের আলো/টিকে