জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ইরানের মূল প্রতিনিধি দল এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় ফেরার বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
কেন সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ?
জাতিসংঘের সদর দফতর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হওয়ায় সাধারণত সদস্য দেশগুলোর নেতাদের জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে হয়।
তবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে থাকা কিছু দেশের নেতাদের ভিসা দেওয়া হয়নি বা ভিসার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
এবার ইরানের প্রতিনিধি দলকে ভিসা দিলেও তাদের চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। বিলাসবহুল ও কিছু নির্দিষ্ট পণ্য কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
হুতিদের হামলাও বাড়ছে
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলাও বেড়েছে। তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের পথে হামলা চালাচ্ছে।
এর ফলে ওই অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের নেতাদের ভিসা দেওয়ার একদিন আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তার প্রতিনিধি দলকে জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দিতে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আদালতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে কোনো সাহায্য করে না এবং রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকা ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে দুর্বল করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ