ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধিতে পোস্টার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্তে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, মাইক্রোফোনের শব্দের মাত্রা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে ইসি। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের আচরণবিধি রহিত করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় মোট ৩৩টি বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট × ৯ ফুট আকারের বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একজন প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারেরও নির্দিষ্ট মাপ ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো সাদা-কালো হতে হবে। ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট × ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর এবং ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি।
নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্রচারের জন্য আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। প্রচার শুরুর আগে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দিতে হবে।
অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারও চেহারা বিকৃত করা, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। একইভাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনের উদ্দেশ্যে ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় একটি ওয়ার্ডে প্রচারের জন্য একটির বেশি মাইক্রোফোন বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। দুপুর ১২টার আগে ও সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ। মাইকের শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিলের পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। কমিশন মনে করলে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে যানবাহন ও আকাশযান ব্যবহার, দেয়াল লিখন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় প্রচার, খাদ্য বা উপঢৌকন বিতরণ এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহারের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচও