কাগজে এক মাস দেখিয়ে দেওয়া হয় ১৫ দিনের ওষুধ

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারে ৩০ দিনের ওষুধের এন্ট্রি করে রোগীদের ১৫ দিনের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ

2026-09-19T22:23:11+00:00
2026-09-19T22:23:11+00:00
 
  শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
কাগজে এক মাস দেখিয়ে দেওয়া হয় ১৫ দিনের ওষুধ
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারে ৩০ দিনের ওষুধের এন্ট্রি করে রোগীদের ১৫ দিনের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বাকি ১৫ দিনের ওষুধ তাদের বাজার থেকে কিনে নিতে হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে এমনটি চলছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতালের এনসিডি কর্নার সূত্রে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের সেবা নিচ্ছেন ৪ হাজারের বেশি রোগী। তবে তাদের মধ্যে ১ হাজার ১শর বেশি রোগী গত এক বছর ধরে এনসিডি কর্নার থেকে সেবা নিচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে কথা হয় এনসিডি কর্নারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নার্সের সঙ্গে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই রোগীদের ১৫ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ওষুধ কম দেওয়া নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কটু মন্তব্যও শুনতে হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ না পাওয়ার কারণে এভাবে দেওয়া হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন আরও বলেন, প্রতি মাসে রোগীরা হাসপাতালে এলে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সেবন করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত ওষুধ ১৫ দিন সেবনের পর পরবর্তী ১৫ দিন বন্ধ রাখলে রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে না পারলে বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


সরেজমিন এনসিডি কর্নারে গিয়ে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অনেক বয়োবৃদ্ধও রয়েছেন। তাদের কয়েকজন জানান, ১৫ দিনের ওষুধ পাওয়ার পর বাকি ওষুধ কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। ফলে কেউ কেউ নিয়মিত ওষুধ না খেয়ে এক দিন পরপর সেবন করছেন বলেও জানান।

সরেজমিন কথা হয় ভুক্তভোগী রোগী আবিদা খাতুনের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, প্রতি মাসেই হাসপাতালে আসি ওষুধ নেওয়ার জন্য। প্রতিবারই আমাকে ১৫ দিনের ওষুধ দেওয়া হয়। অথচ এক মাসের ওষুধ এন্ট্রি হিসাবে দেখানো হয়। বাকি ১৫ দিনের ওষুধ বাজার থেকে কিনে খেতে হয়। একই ধরনের অভিযোগের সুরে কথা বলেন আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. জাকারিয়া মিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত দুই বছর ধরে মাসের ১৫ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বাকি ১৫ দিনের ওষুধ বাজার থেকে কিনে খেতে হয়।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   কাগজ  ওষুধ  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: