গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাতের আঁধারে সরকারি বনের গজারি গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি বনের গাছ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বোয়ালী বিটের তত্ত্বাবধানে বাংলাবাজার এলাকায় সরকারি গজারি বনের এমন চিত্র দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন বোয়ালী বন বিট অফিস ও এর অধীন গোবিন্দপুর সাব-অফিসের আওতায় প্রায় ৩৬ একর সরকারি বনভূমি রয়েছে। এসব জমিতে প্রাকৃতিক গজারি বন এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির ‘উডলট’ বাগান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ কাঠচোর চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। চক্রটি রাতে বনের গজারি গাছ কেটে পাচার করছে। পাশাপাশি গাছ কেটে বনভূমি দখল করে অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে বাংলাবাজারসংলগ্ন গোবিন্দপুর সাব-অফিসের কর্মচারীদের সহায়তায় একটি চক্র বেশ কিছু গজারি গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে দিন দিন বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি নামমাত্র তদন্তে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বনাঞ্চল রক্ষা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গোবিন্দপুর সাব-অফিসের বন প্রহরী জহির বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি সকালে শুনেছি এবং আমার স্যারকে জানিয়েছি।
বোয়ালী বন বিট কর্মকর্তা মুনতাজ বলেন, রাতে গজারি গাছ কাটার খবর পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে তার কার্যালয়ের কোনো কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই