প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়ী সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে জাতিসংঘ

2026-09-21T01:41:54+00:00
2026-09-21T01:41:54+00:00
 
  সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়ী সফর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ এএম 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সং
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলায় বক্তব্য দেবেন তিনি। 

বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। এবারের সফরের অন্যতম আলোচিত দিক হচ্ছে ছোট ও মিতব্যয়ী সফরসঙ্গীর বহর। আগের বিভিন্ন সরকারের সময় জাতিসংঘ সফরে বড় প্রতিনিধি দল ও দীর্ঘ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও এবার প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়েই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে সফরের সময়সূচিও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

আগের বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ সফরে সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বড় প্রতিনিধি দল যাওয়ার তুলনায় এবার বহর ছোট রাখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে সীমিত পরিসরে অংশগ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব।

অনেকেই আগের সরকারগুলোর জাতিসংঘ সফরের সঙ্গে বর্তমান সফরের তুলনা করে পোস্ট দিয়েছেন। এসব পোস্টে বিশেষভাবে উঠে এসেছে সফরসঙ্গীর সংখ্যা, সফরের দিনসংখ্যা এবং কর্মসূচির ধরন।

তথ্য অনুযায়ী এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিরা থাকছেন। এতে সরকারি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সফরের মূল কূটনৈতিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সফরের বহর ছোট রাখার বিষয়টি ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

শুধু বহরের আকার নয়, এবার সফরের সময়সূচিও তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ পর্যায়ের মোট পাঁচটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ দুটি ইভেন্টের আয়োজন করেছে। ফলে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকছে। ফলে এবারের জাতিসংঘ সফরে বড় বহরের পরিবর্তে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল, সংক্ষিপ্ত সময়সূচি এবং নির্দিষ্ট কূটনৈতিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা।

রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও বৈঠকগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন করাই এবারের সফরের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সফরসঙ্গীর সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নানা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে ব্যবহারকারীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় প্রতিনিধি নিয়ে যাওয়া হলেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় বহর না নেওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় করতে পারে। কেউ কেউ এটিকে সরকারি সফরে ব্যয় ও আনুষ্ঠানিকতা কমানোর একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও উল্লেখ করছেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আগের সরকারগুলোর জাতিসংঘ সফরের সঙ্গে এবারকার সফরের তুলনাও করছেন। বিশেষ করে প্রতিনিধি দলের আকার এবং সফরের সময়কাল নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। অনেকে লিখছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সফরে বড় বহরের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজের কর্মসূচি শেষ করাই যুক্তিসংগত।

সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, একসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন মানেই ছিল বড় বহর নিয়ে নিউইয়র্ক যাত্রা। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের সফরে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অন্যান্য ব্যক্তির অংশগ্রহণ করতেন। ২০১৯ সালের জাতিসংঘ সফরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গীর সংখ্যা ছিল ২৯২ জন। শুধু বহর নয়, জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সফরের সময়কালও ছিল দীর্ঘ। 

২০২৩ সালে শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে জাতিসংঘের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে যান। ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। ৪ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি। অর্থাৎ ওই সফরটি ছিল ১৬ দিনের।

সরকার বদলানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সফরেও প্রতিনিধি দলে সরকারিভাবে ৫৭ জনের নাম থাকলেও বেসরকারিভাবে সফরসঙ্গীর ৮০ জনের বেশি ছিল। চমক শুধু সংখ্যায় নয়, সফরসূচির ধরনেও। 

অবশ্য ছোট বহর মানেই কর্মসূচি কম— এমন নয়। এবারের সফরে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। কানাডা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া ও ভুটানসহ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

তা হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে— ৩৫ জনে যদি জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, অতীতে কয়েকশ মানুষের বহর কেন প্রয়োজন হয়েছিল?

তিনি লিখেন, শেষ পর্যন্ত কত টাকা সাশ্রয় হলো, সেই হিসাব অবশ্যই প্রকাশ হওয়া উচিত। তখন বোঝা যাবে সংখ্যার এই পরিবর্তনের আর্থিক মূল্য কত। কখনো কখনো একটি পরিবর্তনের গল্প বলতে অনেক শব্দ লাগে না।

সংখ্যাই যথেষ্ট। গরিব দেশের প্রধানমন্ত্রী তো! রাষ্ট্রের টাকার হিসাবটাও তাই গরিব দেশের মতো হওয়াই স্বাভাবিক।
এ ছাড়া আরেকজন লিখেছেন, ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরে সফরসঙ্গীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০ জন। ওই দলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ছিলেন। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বহরে থাকছে মাত্র ৩৫ জন।

দিল্লির প্রেস মিনিস্টার সাইদুর রহমান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ২৯২ জন সফরসঙ্গীর বহর নেই! আছে মাত্র ৩৫ জনের! ২১ দিন নয়, সফর হবে ৫ দিনের। গ্রেট। নতুন বাংলাদেশের নেতা তারেক রহমান। আপনার নেতৃত্বে স্বমহিমায় এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।’

এদিকে পররাষ্ট্রসচিব জানান, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি নতুন সরকারের প্রথম বৈশ্বিক মঞ্চে অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের জন্য একটি বিরল ও ঐতিহাসিক ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতঃরাশ, অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনা এবং বৈশ্বিক বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। চারজন মন্ত্রী— আইন, পররাষ্ট্র, অর্থ ও পর্যটন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যাবেন। 

এ ছাড়া দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব— ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন সফরসঙ্গী হিসেবে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  মিতব্যয়ী  সফর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: