বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর (বামা) লাইসেন্স বাতিলের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। সংগঠনটির আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার এ স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। বামার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বামার টিও লাইসেন্স বাতিলের প্রজ্ঞাপনটি আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত সিদ্ধান্ত হয়েছে বিধায় গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটির অদেশ স্থগিত করা হলো।
উচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর বামার প্রেসিডেন্ট কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমদানিকারদের ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন মহলের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অন্যায়ভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বামার টিও লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেছিলাম।
উচ্চ আদালত আইনগত দিক বিবেচনা করে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। আমরা প্রত্যাশা করব উচ্চ আদালতের এ আদেশের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত বামার টিও লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বদলাবে এবং বামার সামগ্রিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করে দেবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একসময় দেশে কোনো অ্যাগ্রোকেমিক্যাল বা বালাইনাশক উৎপাদন হতো না। সে সময় মাত্র ১৩ জন আমদানিকারক ‘পেস্টিসাইড অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ নামে এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরে তা ভেঙে বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশন, প্লান্ট গ্রোথ অ্যাসোসিয়েশন, মসকিউটো কয়েল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন এবং রডেন্টিসাইডস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন গড়ে ওঠে।
পরে দেশে নিজস্ব উদ্যোগে অ্যাগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদন শুরু হলে উদ্যোক্তারা পৃথকভাবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)’ গঠনের আবেদন করেন এবং ২০২২ সালের আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স পায়।
বর্তমানে ২২ সদস্যের সংগঠনটি দেশীয় উৎপাদন সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিগত ও আইনি সহায়তা চেয়ে আসছিল। জানা গেছে, বর্তমান সরকার বামার যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়ায় বিপাকে পড়ে আমদানিকারক কোম্পানিগুলো। তবে প্রভাবশালী আমদানিকারকদের লবিংয়ের মুখে অবশেষে সপ্তম দফার শুনানিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বামার ট্রেড অর্গানাইজেশন (টিও) লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছিল।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও