সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের সরদার পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে মরিয়মের মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। ঢাকায় ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি সাতক্ষীরায় আনা হয়। এসময় মরিয়মের সঙ্গে ছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনরা।
মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় ইউপি সদস্য মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানান।
দাফনের আগে স্বজনরা মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, ‘মেয়েটি অনেক মেধাবী ছিল। আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। ওর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মরিয়মের জন্মভূমি চৌদ্দরশি গ্রামে এখন পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে, তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু