জীবনে সব সময় একরকম পরিস্থিতি থাকে না। কখনো আনন্দ আসে, আবার কখনো দুশ্চিন্তা, হতাশা কিংবা নানা অনিশ্চয়তা মানুষের মনে চাপ তৈরি করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক নানা কারণে তৈরি হওয়া এই মানসিক অস্থিরতা একসময় দৈনন্দিন জীবনযাপনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসলামে কঠিন সময়ে আল্লাহর স্মরণ, তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর ওপর ভরসা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু দোয়া ও আমলের কথা এসেছে, যা মুমিনকে বিপদের সময় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এবং অন্তরে প্রশান্তি খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।
মানসিক অস্থিরতার সময়ে যেসব আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে—
১. বেশি বেশি দোয়া করা
দুশ্চিন্তা ও বিপদের সময় মুমিনের অন্যতম আশ্রয় হলো দোয়া। আল্লাহর কাছে নিজের কষ্ট, ভয় ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরলে অন্তরে ভরসা তৈরি হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, আমি তো (তাদের) কাছেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)
দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) যে দোয়াটি পড়তেন—
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি, ওয়াল আজাজি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজালি।’ (বোখারি, হাদিস : ২৮২৯)
অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের নিপীড়ন থেকে।
২. আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা
মানুষের জীবনে সংকট এলে অনেক সময় প্রাপ্তির চেয়ে না-পাওয়ার বিষয়গুলোই বেশি চোখে পড়ে। এতে হতাশা আরও বাড়তে পারে। অথচ আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতগুলো স্মরণ করলে জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো উপলব্ধি করা সহজ হয় এবং কৃতজ্ঞতার মনোভাব তৈরি হয়।
আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তোমাদের সবকিছুই দিয়েছেন, যা তোমরা চেয়েছো। আর তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গুনে শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৩৪)
তাই দুশ্চিন্তার সময়ে শুধু সমস্যার দিকে না তাকিয়ে আল্লাহর দেওয়া সুস্থতা, পরিবার, নিরাপত্তা, রিজিকসহ বিভিন্ন নিয়ামতের কথাও স্মরণ করা উচিত।
৩. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা
বিপদের মুহূর্তে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা মুমিনের অন্তরে শক্তি জোগায়। হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছিলেন। একইভাবে সাহাবায়ে কেরামকেও যখন শত্রুদের ভয় দেখানো হয়েছিল, তখন তারা বলেছিলেন, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’
পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যাদের মানুষ বলেছিল যে নিশ্চয়ই লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে। সুতরাং তাদের ভয় করো। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৭৩)
পরের আয়াতে আল্লাহ তাদের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ বিপদের সময় আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
৪. ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া
কঠিন সময় দ্রুত কেটে না গেলে মানুষ অস্থির হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ এবং সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম।
আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)
তাই জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে, নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর আস্থা রাখতে হবে। দুশ্চিন্তার সময় এসব আমল একজন মুমিনকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ করে দিতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে