জামাতে নামাজ আদায়ের সময় অনেক মুসল্লি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যখন ইমাম রুকুতে থাকা অবস্থায় তারা জামাতে শরিক হন। তখন ইমামের সঙ্গে রুকুর তসবি পড়ার যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় রাকাত গণনা হবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে ইমামের সঙ্গে মাত্র একবার রুকুর তসবি পড়ার পরই যদি ইমাম রুকু থেকে উঠে যান, তাহলে ওই রাকাত পাওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে দ্বিধা দেখা দেয়।
ফিকহের বিধান অনুযায়ী, কোনো মাসবুক ইমামকে রুকু অবস্থায় পেলে এবং ইমাম রুকু থেকে মাথা ওঠানোর আগে রুকুতে শামিল হতে পারলে সে ওই রাকাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে ইমামের সঙ্গে রুকুর তসবি পড়া শর্ত নয়।
তবে ইমামকে রুকু অবস্থায় পাওয়ার পর ইমাম উঠে গেলেও ওই ব্যক্তি অন্তত এক তসবি পরিমাণ সময় রুকুতে অবস্থান করবেন। কারণ, রুকুতে এক তসবি পরিমাণ বিলম্ব করা ওয়াজিব। তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তি যদি ইমামের সঙ্গে একবার রুকুর তসবি পড়তে পারেন এবং দ্বিতীয় তসবি শেষ করার আগেই ইমাম রুকু থেকে উঠে যান, তাহলেও তাঁর ওই রাকাত আদায় হয়ে যাবে। তাঁর নামাজও সহিহ হবে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, ‘যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়ে ইমাম রুকু থেকে মাথা উঠানোর আগে রুকুতে শামিল হলো, সে ওই রাকাত পেয়ে গেল।’
এ থেকে বোঝা যায়, জামাতে দেরিতে শরিক হওয়া মুসল্লির জন্য ইমামের রুকুতে পৌঁছানোই মূল বিষয়। রুকুর তসবি একাধিকবার পড়তে না পারার কারণে রাকাত ছুটে যাবে—এমন নয়। তবে ইমামকে রুকু অবস্থায় পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী অন্তত এক তসবি পরিমাণ সময় রুকুতে থাকা জরুরি।
সুতরাং, কোনো মাসবুক ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হয়ে একবার তসবি পড়ার পর ইমাম উঠে গেলে ওই রাকাত তার আদায় হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১২০), মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (২/২৭৯) এবং রদ্দুল মুহতার (২/৬১)-এ।
সময়ের আলো/এসএকে