শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও তাদের প্রতি স্নেহ-মমতা প্রদর্শন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ। শিশুদের প্রতি তাঁর ছিল গভীর ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ। অথচ সমাজে কখনো কখনো শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন এমনকি অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও ঘটে। মানুষের এমন আচরণ শুধু সামাজিকভাবেই নিন্দনীয় নয়, ইসলামের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত ঘৃণিত।
হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমার হৃদয় খুব কঠিন।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি তোমার অন্তর কোমল করতে চাও?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’
তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে এতিম শিশুদের আদর করো, তাদের স্নেহ ও ভালোবাসা দাও, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তাদের খাবার দাও। তবেই তোমার অন্তর কোমল হবে।’
শিশুদের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা মানুষের হৃদয়কে কোমল করে। বিপরীতে নির্দয়তা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে তোলে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কেবল হতভাগ্য ব্যক্তির হৃদয় থেকেই দয়া তুলে নেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৩)
তাই শিশুদের সঙ্গে কোমল, স্নেহপূর্ণ ও ভালোবাসাময় আচরণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে অসহায় ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের যত্ন নেওয়া এবং তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
শিশুর প্রতি ভালোবাসা শুধু তার মুখে হাসি ফোটায় না, বরং মানুষের নিজের হৃদয়কেও কোমল করে। আসুন, প্রিয়নবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে শিশুদের প্রতি স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সুন্দর আমল করার তাওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/এসএকে