ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দ্য অ্যাথলেটিকের ডেভিড অর্নস্টেইন প্রথম এ তথ্য জানান।
স্বাধীন একটি প্যানেল দীর্ঘ শুনানি শেষে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। প্যানেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্লাবটি আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট কেটে নেওয়া, সীমাহীন জরিমানা এমনকি লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিও হতে পারে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ম্যানচেস্টার সিটি জানায়, বিষয়টি নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ সম্পন্ন হওয়া বাকি। কঠোর গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানায় ক্লাবটি।
ক্লাবের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া বিবৃতিতে যে অবস্থান জানানো হয়েছিল, সেটিই এখনো বহাল রয়েছে। আট বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে বলেও দাবি করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার বছরের তদন্ত শেষে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত আর্থিক তথ্য সঠিকভাবে না দেওয়ার অভিযোগ ছিল ক্লাবটির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতা নীতি এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের লাভ ও স্থায়িত্বসংক্রান্ত নিয়ম না মানার অভিযোগও আনা হয়।
অভিযোগের আওতাভুক্ত সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি আটটি শিরোপা জেতে। এর মধ্যে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি লিগ কাপ ও একটি এফএ কাপ ছিল। ২০১০-১১ মৌসুমের এফএ কাপ ছিল ৩৫ বছর পর ক্লাবটির প্রথম বড় শিরোপা। পরের মৌসুমে ২০১১-১২ সালে তারা জেতে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা, যা ছিল ক্লাবটির ইতিহাসে অষ্টম লিগ শিরোপার প্রথমটি।
অভিযোগগুলোর শুনানি শুরু হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এবং ওই বছরের শেষ পর্যন্ত তা চলে। তখন ম্যানচেস্টার সিটির তৎকালীন কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, স্বাধীন প্যানেলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, স্বাধীন প্যানেলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
এদিকে শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেনের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক মিডফিল্ডার রদ্রি ক্লাবটিকে নির্দোষ বলে বিশ্বাস করার কথা জানান। তাঁর মতে, ম্যানচেস্টার সিটি সব সময় কোনো ভুল না করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল।
এর আগে ২০২০ সালেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতা নীতি ভঙ্গের অভিযোগে প্রথমে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল ক্লাবটিকে। পরে ক্রীড়া সালিশি আদালত (সিএএস) সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরিমানা কমিয়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার করে। তবে সিএএসের রায়ে বলা হয়েছিল, উয়েফার তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি।