চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির জন্য স্থায়ী জায়গা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিনামূল্যে এই কেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দ দিচ্ছে

2026-09-26T22:09:12+00:00
2026-09-26T22:09:12+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির জন্য স্থায়ী জায়গা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিনামূল্যে এই কেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দ দিচ্ছে দেশটির ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগ। এতে চীনের বিশাল বাজারে সারা বছর পণ্য প্রদর্শন করে রফতানি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের পণ্য রফতানিকারকরা।

জানা গেছে, কুনমিংয়ের একটি বিপণিবিতানে (মার্কেটে) বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনকেন্দ্র এবং এর পাশেই প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের গুদাম বিনামূল্যে দেওয়ার কথা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) অবহিত করেছে চীন সরকার। এই বিপণিবিতানে আরও কয়েকটি দেশের পণ্য প্রদর্শনের জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে চীনের বিভিন্ন শহরে পণ্য পাঠাচ্ছে ওই সব দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। ইপিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের মে মাসে ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জিয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে। তারা ইপিবির তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য বিনামূল্যে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র ও গুদামসুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করে। তাতে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের ইউনান প্রদেশের টংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত ফল উৎসবে স্থায়ী পণ্য প্রদর্শন ও গুদামের জন্য ইপিবি এবং ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রথমবারের মতো ওই ফল উৎসবে বাংলাদেশের ৯ জন ফল উৎপাদক ও রফতানিকারকের একটি দল অংশ নিয়েছিল ওই উৎসবে।

চীনে যেসব পণ্যের চাহিদা আছে, সেগুলোই আমরা প্রদর্শন করব। তা ছাড়া চীনের নিজস্ব কিছু কমপ্লায়েন্স রয়েছে। সেগুলোর প্রতি খেয়াল রেখে আমাদের পণ্য নিতে হবে। তবে কোন কোন পণ্য সেখানে যাবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সে সময় ইপিবি জানিয়েছিল, বিনা ভাড়ায় পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র এবং গুদাম ছাড়াও ইউনানের নির্ধারিত অনলাইন কমোডিটি সিটিতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল বিপণন প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন। তা ছাড়া তাজা ও দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য দ্রুত শুল্ক খালাসের সুবিধাও পাবেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, ‘ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দের বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত করেছেন। এটি বাংলাদেশের রফতানি খাতের জন্য সুসংবাদ। এটি আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ। যদিও গত বছর আমরা চীন সরকারকে ৭টি জায়গায় স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। একটি জায়গা পাওয়া গেছে। এটি সফল হলে ভবিষ্যতে আমরা আরও প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম নেওয়ার চেষ্টা করব।’



চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্য হয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের। তার মধ্যে চীন থেকে ২ হাজার ২১৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর বিপরীতে চীনে বাংলাদেশ রফতানি করেছে মাত্র ৮২ কোটি ডলারের পণ্য।

চীন ২০২০ সালে ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা চালু করে। পরে ২০২৪ সালে প্রায় সব পণ্যেই সে সুবিধা দেয়। তারপরও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মূলত আমদানিনির্ভরই রয়ে গেছে।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, গত জুনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কুনমিংয়ের পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পরিদর্শন করে এসেছেন। যে বিপণিবিতানে বাংলাদেশকে পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সে দেশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসেন।

আমরা চীনের সরকারকে ৭টি জায়গায় স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। একটি জায়গা পাওয়া গেছে। এটি সফল হলে ভবিষ্যতে আমরা আরও প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম নেওয়ার চেষ্টা করব।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে চীনের বাজারে রফতানি বাড়ানো সম্ভব। চীনে যেসব পণ্যের চাহিদা আছে, সেগুলোই আমরা প্রদর্শন করব। তা ছাড়া চীনের নিজস্ব কিছু কমপ্লায়েন্স রয়েছে। সেগুলোর প্রতি খেয়াল রেখে আমাদের পণ্য নিতে হবে। তবে কোন কোন পণ্য সেখানে যাবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   চীন  কুনমিং  বাংলাদেশ  পণ্য বিক্রি  স্থায়ী জায়গা 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: