নিয়োগপত্রের দাবিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক প্রার্থীদের একটি অংশ রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান শুরু করেন তারা। দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়াসহ নির্ধারিত সময়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে, শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে রোববারের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। রোববার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান তারা। বেলা ১১টা থেকে সড়কে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।
নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২৫ ব্যাচে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। ভেরিফিকেশনের পর অন্তত ২ হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তবে, আন্দোলনকারীদের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারীরা বলেন, সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় ৮ মাস বেকার থাকার পর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকা বা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নয়- এমন যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগপত্র দিতে হবে।
কেন ২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, নিয়োগের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বলে জানাচ্ছে, মন্ত্রণালয় জেলা শিক্ষা অফিসের কথা বলছে, আবার জেলা শিক্ষা অফিস বলছে অধিদফতরের কথা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন করে ভেরিফিকেশনের নামে সময়ক্ষেপণ না করে যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। আজকের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১ অক্টোবর সব যোগ্য প্রার্থীকে একসঙ্গে যোগদানের সুযোগ দিতে হবে।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। এদিকে, সমস্যা সমাধানের জন্য ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের দিকে গেছে বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু