আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের অপরাধে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে গুম ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনাল-১ এ এসে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান। তার জেরা শেষ হয়েছে আজ। এ মামলায় আমরা ট্রাইব্যুনালে দালিলিক, প্রত্যক্ষদর্শীসহ যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছি। এর মাধ্যমে জিয়াউলের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া সম্ভব। তবে, শাস্তি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এসব দাবি তুলে ধরব।’
প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলার প্রত্যেকটি অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আমরা উপস্থাপন করেছি। সাক্ষীরা জিয়াউলেরই অধীন ছিলেন। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও দুএকজন রয়েছেন। আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হলে আইন অনুযায়ী যদি আসামিপক্ষ মনে করেন যে, তারা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন, তাহলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তারা দিতে পারবেন। এখন পর্যন্ত তারা আমাদের দুজন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছেন। তারা দেবেন কি না, তা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নির্ধারিত হবে।’
প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, ‘কবে নাগাদ মামলা শেষ হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবর মাসের মধ্যে উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
সময়ের আলো/মহু