প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর উপলক্ষে জেলার পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পরশুরামের খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও প্রস্তাবিত পথসভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। সফরকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু), ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফেনীর পরশুরাম ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের সমস্যা সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পাশাপাশি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে মানুষের জানমাল ও কৃষিজমি আরও সুরক্ষিত হবে বলেও জানান তিনি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
পানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পানি শুধু মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অপরিহার্য নয়, একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত। বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো গেলে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নেওয়া প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, পরিবেশগত ভারসাম্য ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ফেনীর মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এর ফলে কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ফেনীর মানুষকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষা দিতে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আমরা আশা করি।’
সময়ের আলো/কেএইচ