ইসলামের অন্যতম শিক্ষা পরমতসহিষ্ণুতা। অপরের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা প্রদর্শন ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি মানুষ সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, নারী হোক কিংবা পুরুষ, মানুষ হিসেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি মানবজাতিকে সম্মানিত করেছি, আমি তাদের স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদের উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি আমার সৃষ্টিজগতের অনেকের ওপর। (সুরা বনি ইসরাইল : ৭০)
মানুষ যখন পরস্পরে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখবে তখন দুনিয়াতেও যেমন সফলতা আসবে তেমনি পরকালেও লাভ হবে বিশাল পুরস্কার। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর না জুলুম করতে পারে, না তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করতে পারে আর না তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে।’ তারপর নবীজি নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বললেন, ‘তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে। কেউ নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জীবন, ধনসম্পদ ও মানসম্মান প্রত্যেকের সম্মানের বস্তু। এর ওপর হস্তক্ষেপ করা হারাম’ (মুসলিম : ৬৭০৬)। তাই একজন মানুষ অন্য কোনো মানুষের কষ্টের কারণ হতে পারে না।
প্রিয় নবী (সা.) জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতেন। একবার নবীজির পাশ দিয়ে একটি মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি ওই মরদেহের সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁকে বলা হলো, মরদেহটি তো একজন ইহুদির। মহানবী (সা.) বললেন, সে কি মানুষ নয় (মুসলিম : ৯৬১)। মানুষের মর্যাদাহানি, কুৎসা রটনা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করাকেও ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমাদের কোনো সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়কে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে যেন বিদ্রুপ না করে।’ (সুরা হুজুরাত : ১১)
কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয়প্রতিপন্ন করা মুমিনের কাজ নয় বরং তা সংকীর্ণ মানসিকতার লক্ষণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করো না। পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ করো না ও পরস্পর শত্রুতা করো না। বরং হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও’ (বুখারি : ৪৮৪৯)। রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, তোমরা কোনো মুসলমানের নিন্দা করো না, তাদের ছিদ্রান্বেষণ করো না। কেন না যে ব্যক্তি অপরের দোষ খোঁজে আল্লাহ তার দোষ খোঁজেন। আর আল্লাহ যার দোষ খোঁজেন তাকে তার নিজস্ব আবাসস্থলেই অপদস্থ করেন।’ (আবু দাউদ : ৪৮৮০)
ঘৃণা, পরনিন্দা, সম্মানহানি— এসবের পরিবর্তে শ্রদ্ধা, সৌহার্দ ও ভালোবাসার প্রসার ঘটানো ইসলামের মহান শিক্ষা। রাসুল (সা.) মুমিনের ভালোবাসাকে ঈমানের মাপকাঠি সাব্যস্ত করে বলেছেন, ‘ঈমান ছাড়া তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না— পরস্পরকে ভালোবাসা ছাড়া তোমরা মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলে দেব না, যাতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? পরস্পরকে সালাম দেবে’ (মুসলিম : ২০৩)। মানুষ হিসেবে সবাই শ্রদ্ধার পাত্র। আল্লাহ সবাইকে শ্রদ্ধা ও মর্যাদা বজায় রেখে চলার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে