সারের মজুদ বাড়াচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

সম্প্রতি দেশে সারের বেশ সংকট তৈরি হয়েছিল। বেশ কিছু এলাকায় সারের জন্য কৃষককে আন্দোলনও করতে হয়েছিল। এবার সরকার দেশে সারের

2026-10-02T02:19:16+00:00
2026-10-02T02:19:16+00:00
 
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
সারের মজুদ বাড়াচ্ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি দেশে সারের বেশ সংকট তৈরি হয়েছিল। বেশ কিছু এলাকায় সারের জন্য কৃষককে আন্দোলনও করতে হয়েছিল। এবার সরকার দেশে সারের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার সংগ্রহে দুই হাজার ১০৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া, ৮০ হাজার টন ডিএপি এবং ৭০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। 

বৈঠকে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রস্তাব রয়েছে। সার কেনা ও আমদানির এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন।

কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া
কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৩১২ টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাফকো থেকে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতি লটে ৩০ হাজার টন করে সার কেনা হবে। এ অর্থবছরে ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টন।

তৃতীয় লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার কেনার জন্য মূল্য প্রস্তাব দিতে কাফকোকে অনুরোধ করা হলে প্রতিষ্ঠানটি মূল্য প্রস্তাব দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি টন ৪৩৮ দশমিক ১২৫ ডলার দরে মোট ১ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারের সার কেনা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৩১২ টাকা।

সাবিক থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া
সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ষষ্ঠ লটে ৪০ হাজার টন, অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৪০ টাকা।

সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল হতে সাবিকের কাছ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী ষষ্ঠ লটের সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৪৬৩ দশমিক ১৭ ডলার। ৪০ হাজার টন সারের মোট মূল্য ১ কোটি ৮৫ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ ডলার বা ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৪০ টাকা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম লটে ৪০ হাজার টন, অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে ৩ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশোধিত চুক্তিতে এফওবি শর্তের পাশাপাশি সিএফআর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

সিএফআর ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করে প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। এর মোট মূল্য ২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রস্তাবটি কার্যোদ্ধার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।

চুক্তির এফওবি শর্তের ক্ষেত্রে লটের প্রথম দিনের আগের চতুর্থ সপ্তাহে প্রকাশিত বুলেটিনের দর প্রযোজ্য হতো। তবে সিএফআর শর্তের ক্ষেত্রে প্রস্তাব পাঠানোর আগের সপ্তাহের দর প্রযোজ্য হবে।

মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন ডিএপি
মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ষষ্ঠ ও সপ্তম লটে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই লটের প্রতিটির জন্য ব্যয় হবে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ফলে ৮০ হাজার টন ডিএপি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৮৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন সরকারি পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে মরক্কো থেকে ডিএপি সার আমদানি করে। আগের চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় গত ২৫ জুন পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়।

চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী ষষ্ঠ ও সপ্তম লটের ডিএপি সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি টন ডিএপি সারের দাম ৮৭৭ ডলার। প্রতিটি লটে ৪০ হাজার টন, অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ সার আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটের মোট মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মরক্কো থেকে ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬০ হাজার টন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ডিএপি আমদানি করা হয়েছে।

মরক্কো থেকে ৭০ হাজার টন টিএসপি
একইভাবে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় অষ্টম ও নবম লটে মোট ৭০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে অষ্টম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ টাকা। প্রতি টন টিএসপি সারের দাম ৬৬৭ দশমিক ৬৭ ডলার। এ লটের মোট মূল্য ২ কোটি ৩০ লাখ ১০০ ডলার।

নবম লটে ৪০ হাজার টন, অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৮২০ টাকা। এ লটের মোট মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬ হাজার ১০০ ডলার। প্রতি টন টিএসপি সারের দাম ৬৬৭ দশমিক ৬৭ ডলার। আগের চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় গত ২৫ জুন মরক্কোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হয়। ওই চুক্তির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করে টিএসপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিএসপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   সার  মজুদ  সরকার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: