জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নবম হয়েছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। শুক্রবার জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ৯ম-১২তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে সিঙ্গাপুরকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হকি খেলতে থাকে। ম্যাচের ১০ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আইরিন আক্তার রিয়া। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলা আরও জমে ওঠে। ৪২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখে সাময়িক বহিষ্কার হন বাংলাদেশের লিমা আক্তার। বাংলাদেশ ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সিঙ্গাপুরকে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরান তৌ লি মিন। নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে চরম স্নায়ুচাপ ধরে রেখে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
এ জয়ে কোচ জাহিদ হোসেন রাজু মেয়েদের পারফরম্যান্সে খুশি। কোচের ভাষায়, প্রথমবারে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে তারা খেলছে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা পারফরম্যান্স করেছে। তাদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। তবে নিজেদের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে বলেও জানান তিনি। প্রথমে লিড নিয়েছি, পরে গোল হজম করেছি এটা বড় টুর্নামেন্টে ফেস করা আর অভিজ্ঞতার জন্য হয়েছে বলে জানান কোচ।
ম্যাচে লিড নিয়েও ধরে রাখতে না পারায় ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়ে আইরিন আক্তার বলেন, ‘প্রথমত আমরা এই প্রথম এশিয়ান গেমসে আসছি। এখানে প্রতিটি ম্যাচেই সবার সঙ্গে খেলার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কীভাবে খেললে ম্যাচ জেতা যায় বা কীভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব।’ ‘আজকের ম্যাচে আমরা প্রথম লিড নিয়েছিলাম, কিন্তু থার্ড কোয়ার্টার পর্যন্ত তা ধরে রেখে খেলতে পারিনি। যার কারণে ম্যাচ শুটআউটে গড়ায় এবং পরে আমরা জয় লাভ করি।’ আরও যোগ করেন আইরিন।
নারী হকিতে বাংলাদেশের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। তারপরও জুনিয়র এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসেও ভালো করেছে মেয়েরা। অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও নিজেদের উন্নতির প্রচেষ্টা অর্পিতা পাল বলেন, ‘প্রথমবার আমরা এশিয়ান গেমসের মতো মঞ্চে খেলতে এসেছি। অন্য দলগুলোর অনেক অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন দল হিসেবে আমাদের কিছুটা কম ছিল।’
নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে অর্পিতা বলেন, ‘তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ধারাবাহিকভাবে খেলাটা ধরে রাখতে এবং প্রতিটি দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। শুরুতে কিছু ছোট ভুলের কারণে পিছিয়ে পড়লেও কাজাখস্তানের বিপক্ষে আমরা ড্র করেছি এবং শেষ ম্যাচে পজিশনাল লড়াইয়ে জয় পেয়েছি। সামনে অভিজ্ঞতা আরও বাড়লে অবশ্যই জয়ী নিয়ে ফিরতে পারব।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা