আড়াই কোটির ঢাকায় দুই কোটি মানুষই থাকেন ভাড়া বাসায়

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

ঢাকা শহর যত বড় হচ্ছে, ততই যেন ছোট হয়ে আসছে নিজের একটি ঠিকানার স্বপ্ন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত জীবনের আশায়

2026-10-05T13:02:08+00:00
2026-10-05T13:02:08+00:00
 
  সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
আড়াই কোটির ঢাকায় দুই কোটি মানুষই থাকেন ভাড়া বাসায়
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ পিএম 
ঢাকা শহর। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা শহর যত বড় হচ্ছে, ততই যেন ছোট হয়ে আসছে নিজের একটি ঠিকানার স্বপ্ন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিদিন রাজধানীতে মানুষের ভিড় বাড়লেও তাদের বড় একটি অংশের জীবনে ‘নিজস্ব বাড়ি’ এখনো অধরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, আড়াই কোটি মানুষের এই নগরে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মানুষের নিজস্ব আবাসন রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি মানুষকে থাকতে হয় ভাড়া বাসায়।

এই ভাড়ার বোঝাও কম নয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ চলে যায় বাসাভাড়ায়। ফলে বছরের পর বছর চাকরি করেও অনেকের পক্ষে ঢাকায় এক টুকরো জমি কিংবা একটি ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব হয় না। নিম্ন আয়ের মানুষের বাস্তবতা আরও কঠিন—তাদের অনেকের ঠাঁই হয় বস্তিতে কিংবা বসবাসের অনুপযোগী ছোট ছোট কক্ষে।

রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়ার মাদবর পুকুরপাড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন একটি নামি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাকির হোসেন। চাকরিজীবনের ২৬ বছর পার করেছেন তিনি। আর চার বছর পর কর্মস্থলের নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যেতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ এই কর্মজীবনেও ঢাকায় একটি জমি কেনা বা ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার সামর্থ্য হয়নি তার।

একসময় রাজধানীতে নিজের একটি ফ্ল্যাট কিংবা শহরতলিতে একটি স্বপ্নের ঠিকানা গড়ার ইচ্ছা ছিল জাকিরের। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নও ফিকে হয়ে গেছে। এখন আর নিজের বাড়ির স্বপ্ন দেখেন না তিনি।

জাকির হোসেন বলেন, ‘যা বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার মোটামুটি চলে। অতিরিক্ত কিছু করার মতো টাকা হাতে থাকে না। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, অসুস্থ মায়ের ওষুধপত্র ও পরিবারের পেছনেই সব ব্যয় হয়ে যায়।’

জাকিরের এই গল্প একার নয়। রাজধানীতে বসবাসকারী বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষের বাস্তবতা অনেকটা একই। মাস শেষে বেতন আসে, আর তার একটি বড় অংশ চলে যায় বাসাভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও সংসারের অন্যান্য খরচে। ফলে নিজের একটি স্থায়ী আবাসনের জন্য সঞ্চয় করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ে।

নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট আরও তীব্র। শহরে টিকে থাকার জন্য তাদের অনেকেই বেছে নেন কম ভাড়ার ছোট ঘর কিংবা বস্তি। সীমিত আয়, উচ্চ বাসাভাড়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন তাদের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটিতে শহরাঞ্চলে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। 

আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে উচ্চ, মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আবাসিক প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের পাশাপাশি স্বল্প খরচে টেকসই ঘর তৈরির কলাকৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা বিপণনের উদ্যোগও রয়েছে। গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার ৫১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনে ১৫টি ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এ ছাড়া ময়মনসিংহে মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং নোয়াখালীর মাইজদী ও হবিগঞ্জে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও চলছে।

তবে প্রকল্প, পরিকল্পনা কিংবা আবাসন মেলার হিসাবের বাইরে জাকির হোসেনের মতো মানুষের প্রশ্নটি থেকেই যায়—দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে নিজের একটি ঠিকানা কি সত্যিই তাদের নাগালে আসবে?

বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ সেই প্রশ্নটিই সামনে আনে। একটি শহর তখনই সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, যখন সেখানে বসবাসকারী মানুষ শুধু কাজের সুযোগই পান না, পান নিরাপদ ও সাশ্রয়ী একটি ঠিকানাও। 

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   আড়াই কোটি  ঢাকা  দুই কোটি  ভাড়া বাসা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: