জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই মামলা দায়ের করেছিল।
দুদক সূত্র জানায়, গাড়ি চালক তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বায়েজিদ বোস্তামী থানা কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। ১৯৮৯ সালে তিনি গাড়িচালকের সহকারী পদে ওয়াসায় যোগ দেন। এরপর গাড়িচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। দুর্নীতির মামলা হওয়ার পর ২০২৩ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
২০২২ সালের ৫ মার্চ তাজুল ইসলাম ও খাইরুন নেসার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার পর শুরু হয় অনুসন্ধান। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন।
অভিযোগপত্রের তথ্যে দেখা যায়, ২০০২ সালে চট্টগ্রাম নগরীর রউফাবাদ এলাকায় তাজুল তার স্ত্রীর নামে ৩ শতক জায়গা কেনেন। পরে সেখানে পাঁচতলা বাড়ি তৈরি করেন। ২০২২ সালে দুদক তাজুলকে সম্পদবিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দেয়। বিবরণীতে তিনি অর্ধেক বাড়ি বানানোর খরচ দেখান ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কিন্তু দুদক গণপূর্ত বিভাগের তিন প্রকৌশলীর মাধ্যমে তদন্ত করে বাড়ির অর্ধেকের নির্মাণব্যয় নির্ধারণ করে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ হিসেবে পুরো বাড়ি নির্মাণে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে পাওয়া যায় নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ হিসেবে তাজুলের স্ত্রীর মোট ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ পায় দুদক। কিন্তু দুদক গৃহিণী খাইরুনের বৈধ কোনো আয়ের উৎস খুঁজে পায়নি। তাজুল তার স্ত্রীকে পোলট্রি খামারি হিসেবে বিবরণীতে উল্লেখ করলেও এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
পিপি মোকাররম জানান, দুদকের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায়ের পর সাজামূলে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় মো. তাজুল ইসলামকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৬ টাকার ৫০ শতাংশ হিসেবে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা