কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানোর কারণে চিকিৎসায় দেরি হয়। পরে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনম দেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন জামালপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মফেজ মণ্ডলের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঘরের বাইরে বাথরুমে যাওয়ার সময় শহিদুলকে একটি বিষধর গোখরা সাপ কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে আসেন। তবে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে পাকুড়িয়া গ্রামের ইনারুল নামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার পর ওঝা দাবি করেন যে শহিদুলের শরীরে আর সাপের বিষ নেই। এরপর তার পায়ের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।
বাঁধন খোলার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা শুরু করার আগেই তার মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. কৌশিক আহমেদ জানান, ভোরে শহিদুল ইসলাম নামের এক সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ার কারণে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের আগেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া গ্রামে সাগরিকা (২৬) নামের এক গৃহবধূকে সাপে কামড় দিয়েছিল। সেসময়ও পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হলেও যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তারও মৃত্যু হয়েছিল।
সময়ের আলো/আতা