অপারেটরবিরোধী আন্দোলনে সব শ্রমিক সংগঠন একাট্টা

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম

জাতীয়

জাতীয় রাজনীতিতে বিপরীত মেরুতে অবস্থান বড় বড় দলের। দাবি আন্দোলন মিছিল মিটিংয়েও মতের মিল নেই। বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াত

2026-10-07T02:53:24+00:00
2026-10-07T02:53:24+00:00
 
  বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা
অপারেটরবিরোধী আন্দোলনে সব শ্রমিক সংগঠন একাট্টা
সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ এএম 
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় রাজনীতিতে বিপরীত মেরুতে অবস্থান বড় বড় দলের। দাবি আন্দোলন মিছিল মিটিংয়েও মতের মিল নেই। বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াত এখন ভিন্ন মেরুতে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে পরিস্থিতি ভিন্ন। সব দলের বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিক সংগঠনগুলো একাট্টা। সবার দাবি একটা চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। সরকারি দল বিএনপিপন্থি সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বাম ধারার রাজনৈতিক দল এবং জামায়াত সমর্থিত চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘও একই দাবিতে মাঠে। ভিন্ন কৌশলে ব্যানার ছাড়া আন্দোলনে যুক্ত আছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংগঠন বন্দর জাতীয় শ্রমিক লীগও। 

সব সংগঠনের তৎপরতার বাইরে আলোচনায় বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতায়। বিদেশি অপারেটর বিরোধিতায় সামনের কাতারের দল হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এই দলের নেতাদের অনেকেই একসময় ছাত্রদল, যুবদলের নেতৃত্বে ছিলেন। বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে। তাই বিএনপি সমর্থিত নেতারা সাংগঠনিকভাবে অপারেটরবিরোধী আন্দোলন করছেন এমন দাবি মানতে নারাজ। 

নেতারা বলছেন, তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করছেন। এককভাবে বন্দর শ্রমিক দল এই আন্দোলন করছে না। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরকে দিলেই বন্দর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এনসিটি-সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে পরিচালনা ভার দেওয়ার বিরোধী আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সচিব শেখ নুরুল্লাহ বাহার। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমরা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল পরিচালনা করতে দেব না। আমি সরকারি শ্রমিক সংগঠন করলেও বন্দর এবং জাতীয় স্বার্থে বিদেশি অপারেটরবিরোধী অবস্থান সবসময় থাকবে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নিষেধ করলেও আমরা শুনব না। কারণ আমরা শ্রমিকদের স্বার্থে কাজ করি। 

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবির। তিনি আবার চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, আমরা সরকারি দলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বন্দরের স্বার্থে আমরা আন্দোলন করছি চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে। আমাদের কাছে দলের চেয়ে দেশের স্বার্থ এবং বন্দরের স্বার্থ অনেক বড়। 

ক্ষমতায় আছে বিএনপির সরকার। আপনারা বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক দলের নেতা। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটি সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার। আপনাদের এই আন্দোলন পরোক্ষাভাবে সরকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বন্দরের স্বার্থ যেখানে ক্ষুণ্ন্ন হবে সেখানেই আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এখানে দলের চেয়ে বন্দর বা দেশের স্বার্থটা বড় করে দেখছি। 

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক এবং বন্দর শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, আমরা সরকারি দলের সমর্থিত সংগঠন করি। স্কুল-কলেজ জীবনে আমি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এরশাদ ও হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম। এখন চট্টগ্রাম বন্দরে জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত শ্রমিক দলের নেতা। কিন্তু এনসিটি সিসিটি পরিচালনা যদি বিদেশি অপারেটরের হাতে যায় তবে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প বন্দর তো নেই। আর আমরা বন্দরের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তিকে তো সমর্থন দিতে পারি না। দল যেটাই করি এই মুহূর্তে বন্দরের স্বার্থকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ। জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে বেশ দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে বিএনপি সমর্থিত সংগঠনের মতো একই দাবিতে মাঠে শ্রমিক সংঘের নেতারা। কয়েক দিন আগে এনসিটি সিসিটিতে বিদেশি অপারেটরবিরোধী মিছিল মিটিং সমাবেশ করা হয়েছে। এই সংগঠনও হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনসিটি সিসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া যাবে না।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন সময়ের আলোকে বলেন, এনসিটি-সিসিটি বিদেশি অপারেটরকে পরিচালনা না দেওয়ার আন্দোলনে আমরাও আছি। তবে আমরা এককভাবে নিজেদের সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন করছি। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ চুক্তি হলেই বন্দর কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা এখনও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। চুক্তি হলে আমরা ওই দিন সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত। শুরু থেকেই তিনি টার্মিনাল ইজারা ইস্যুতে মাঠে ছিলেন তৎপর। বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো বন্দর ইস্যুতে কীভাবে এক হলো এ প্রশ্নে তিনি সময়ের আলোকে বলেন, শ্রমিকরা সহনশীল রাজনীতি করে। আমাদের স্বার্থে আমরা এক। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলসহ আমরা আন্দোলন করছি। এমনকি বন্দর জাতীয় শ্রমিক লীগের অনেকেই আমাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। এই গ্রুপের একটি অংশ ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার বিরোধী। তবে কোনো ধরনের আন্দোলনে যুক্ত নেই।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিক দলের বিভক্ত গ্রুপের এক নেতা বলেন, সরকারে আছে বিএনপি। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারি না। তাই চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অনেকে অপারেটরবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও আমরা নেই। আমরা মনে করি বন্দর জাতীয়তবাদী শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে এনসিটি-সিসিটি পরিচালনা বিদেশি অপারেটরে পরিচালনা বিরোধিতা করা মানে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাই টার্মিনাল পরিচালনা ইস্যুতে কোনো আন্দোলনে আমরা নেই।

 ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওই দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব কোন বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হয়েছে তা বলা হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে। তবে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এ টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হচ্ছে বলে ব্যাপকভাবে আলোচনা আছে। 

গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এনসিটি ইজারা বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সরকার। এর আগে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েও শেষ সময়ে স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন করে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকে আন্দোল জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চলছে মিছিল মিটিং সমাবেশ। চুক্তি হলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   আন্দোলন  শ্রমিক সংগঠন  চট্টগ্রাম বন্দর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: