নির্বাচন এলেই আসে নদী খননের নানা চোখধাঁধানো প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ভোট পার হলেই যেন আর কারো মনে থাকে না সেই কথা। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ভুলুয়া নদীর পাড়ের বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক বলেন, ভোটের আগে কত কথা শুনি! কিন্তু ভোট গেলে নদী আর কেউ মনে রাখে না। একই সুর রামগতি উপজেলার পোড়াগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিমের কণ্ঠেও। তার মতে, যে সরকারই আসুক না কেন, শুধু আশ্বাসের বাণীই শোনায়,বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভুলুয়া নদীর আশপাশের লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। দীর্ঘদিনের জমে থাকা পলি ও নাব্যতা সংকটের কারণে নোয়াখালী সদর, লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পানি সময়মতো নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে উৎপত্তি হয়ে ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে ঐতিহাসিক এই ভুলুয়া নদী। এক সময়ের খরস্রোতা এই নদীটি দিয়েই মূলত বৃহত্তর নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের বর্ষার পানি মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হতো। কিন্তু কালের আবর্তে এবং মানবসৃষ্ট নানা থাবায় নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। নদীর দুপাশজুড়ে অবৈধ দখল, ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ, প্রশাসনিক অবহেলা এবং নদীর বুকে জাল-ঘের দিয়ে মাছ চাষের কারণে গতিপথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বহু জায়গায় এখন স্রোতের বদলে আটকে রয়েছে বিষাক্ত দূষিত পানি আর ময়লা-আবর্জনা।
স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, নদীটি পুনঃখনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট আকুতি, শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, স্থানীয়দের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তা না হলে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদটি চিরতরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রামগতি পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, শুধু ভুলুয়া নদীই নয়, এ অঞ্চলের সব খাল ও ভুলুয়া নদী পুনঃখননের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাস হয়ে এলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা