দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, সরকার স্থাপত্যশিক্ষা ও স্থপতিদের পেশাকে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় মূল্যায়ন করে। দেশের মেধাবী স্থপতিরা যাতে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশের অনেক স্থপতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। বর্তমান প্রজন্মের স্থপতিরাও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে আশা করে সরকার।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের গৃহীত নীতির ফলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে নান্দনিক ও মানসম্পন্ন স্থাপত্যের মাধ্যমে তুলে ধরতে স্থপতিদের মেধা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এমন স্থাপত্যকর্ম নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সমৃদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, এ রূপান্তরে সরকারি খাত প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেবে, যাতে বেসরকারি খাত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। দেশের স্থপতিদের পেশাগত দক্ষতার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে তাঁরা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।
বাংলাদেশি স্থাপত্য ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আইএবি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে সরকারের সর্বোচ্চ সমর্থন থাকবে।
দেশে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার নতুন স্থাপত্য স্নাতক বের হচ্ছেন উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এ ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তরুণ স্থপতিদের জন্য দেশীয় শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করতে চায়।
আইএবির সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. শরীফ শামস ইমনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থপতি কেভিন বিংহ্যাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক, স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ এবং স্থপতি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।
সময়ের আলো/এসএকে