সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ

সময়ের আলো ডেস্ক

আইন-আদালত

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা

2026-10-12T22:06:31+00:00
2026-10-12T22:06:31+00:00
 
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
আইন-আদালত
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম 
সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা। সংগৃহীত ছবি
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।       

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। রাত আড়াইটার দিকে বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন।   

মামলার এজাহারে যেসব অভিযোগ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার চালানো, অর্থ সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত।

এ ছাড়া ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। 

এজাহারে আরও বলা হয়, ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি পেজ ব্যবহার করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রস্তুতের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সেগুলোর প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের এজাহার অনুসারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর জন্য অবৈধভাবে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে সংহতি ও আনুগত্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ নামে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন

মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং আসামিদের পরিচালিত অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা পেজ রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে দেবাশীষ ও গুলশান আরাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। কিছুক্ষণ পর বিচারক এজলাসে উপস্থিত হন। শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন। এ ছাড়া এ বিষয়ে আরও বিভিন্ন উপাদান পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য

রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ এ মামলার দুই নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, দেবাশীষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হলেও ঠিক কী কারণে এ মামলা করা হয়েছে এবং তার অপরাধ কী, সে বিষয়ে রিমান্ড আবেদনে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

অন্যদিকে, গুলশান আরার আইনজীবী মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে একটি টক শোতে অংশ নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে টক শোতে তিনি কী বক্তব্য দিয়েছিলেন, যার কারণে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ আনা হলেও কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পতিত সরকারের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাদের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামিরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কী ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে রিমান্ড প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ 

  বিষয়:   গুলশান আরা  ডিএমপি  গোয়েন্দা বিভাগ 


Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: