আজ ১৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো- ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’।
দুর্যোগ মানুষের জীবন, জীবিকা, সম্পদ ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, যথাযথ প্রস্তুতি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এ দেশে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ দেখা দেয়। এ ছাড়া, রয়েছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভবন নির্মাণবিধি না মানা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কর্মস্থল ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করলে দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে মানুষের প্রস্তুতি বাড়বে।
দুর্যোগে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় তাদের বিশেষ প্রয়োজন ও সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাও জরুরি।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের মূল বার্তা হলো, দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কার্যকর পরিকল্পনা, জনসচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবন, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই দিবসটি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে আরও সচেতন ও প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানায়।
সময়ের আলো/মহু