এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। ভারতের জলন্ধরে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) ঘোষিত ২৬ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডের সব খেলোয়াড় নিয়ে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ৬টায় মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে খেলোয়াড়দের। শুরুতে দেশীয় কোচ শহীদুল্লাহ টিটুর তত্ত্বাবধানে চলবে অনুশীলন। এরপর দলের সঙ্গে যোগ দেবেন জার্মান কোচ গেরহার্ড। আগামীকালের মধ্যে তার ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন শুরু হলে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি আরও গতি পাবে বলে আশা করছে ফেডারেশন।
এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াকে বাংলাদেশের হকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বাহফে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ সীমিত থাকায় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগও পাবেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলেন, ‘এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আমাদের হকির জন্য আনন্দের বিষয়। এখানে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবে আমাদের খেলোয়াড়রা। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার কারণে যে বিরতি তৈরি হয়েছিল, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। এতে তাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে এবং খেলার মান বাড়ানোর পথ তৈরি হবে। নিজেদের সামর্থ্য ও শক্তি বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছানোই এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য।’
জলন্ধরের এই আসরে বাংলাদেশের সামনে থাকবে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্যাম্পে শারীরিক সক্ষমতা, দলীয় সমন্বয় ও কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে খেলোয়াড়দের। স্বল্প সময়ের এই প্রস্তুতিতে কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ফেডারেশনের প্রত্যাশা, নিবিড় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে দল প্রতিযোগিতার আগে নিজেদের সেরা অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবে। জলন্ধরে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বাংলাদেশ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা