ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ফ্যাশন শোতে রিয়েলিটি টিভি তারকা কাইলি জেনার। ছবি : সংগৃহীত রিয়েলিটি টিভি তারকা কাইলি জেনার ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ফ্যাশন শোতে প্রথমবারের মতো হাজির হয়েই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। কারণ তার পরনে ছিল ৫ কোটি ডলার (৬১৮ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা) মূল্যের একটি অন্তর্বাস। তার এমন খোলামেলা উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। রোববার অন্তর্বাস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের বার্ষিক ফ্যাশন শোতে দর্শকদের চমকে দেন প্রসাধন সাম্রাজ্যের মালিক কাইলি। এদিন তার পরনে ছিল বহুল আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। নকশাকারীর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেট সোনা ও ৪ হাজার ৪১০টি হীরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ অন্তর্বাসটি। খবর বিবিসির।
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোর অন্যতম আকর্ষণ এই ফ্যান্টাসি ব্রা। কোনো মডেলের ক্ষেত্রে এটি পরার সুযোগ পাওয়াকে বিশেষ সম্মান ও ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘দ্য কার্দাশিয়ানস’ খ্যাত ২৯ বছর বয়সি কাইলিকে এই অন্তর্বাসের জন্য বেছে নেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার কিছু ভক্ত। তবে অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তাদের সমালোচনার মূল কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন দুনিয়ায় কাজ করা কোনো সুপার মডেলকে এই সুযোগ না দিয়ে কাইলিকে বেছে নেওয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিপণন বিশেষজ্ঞ জোয়েল মারলিনারসনের মতে, কাইলির এই উপস্থিতি ছিল সুপরিকল্পিত। এটি মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। বিবিসি নিউজবিটকে তিনি বলেন, কাইলি এমন এক নতুন যুগের তারকাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে ব্র্যান্ডগুলো একজন মডেল প্রচলিত সৌন্দর্য ও শারীরিক গড়নের সংজ্ঞার সঙ্গে কতটা মানানসই, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তাকে দেখতে কত মানুষ আগ্রহী হবে, সেই বিষয়টিকে। মারলিনারসনের মতে, তরুণ দর্শকদের সঙ্গে কাইলির একটি গভীর সংযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দেখে এবং কার্দাশিয়ান বোনদের সঙ্গে তার রিয়েলিটি শো অনুসরণ করেই বড় হয়েছে এই প্রজন্মের অনেকেই।
তবে ফ্যাশন দুনিয়ার পুরোনো দর্শকদের একটি অংশ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে যারা নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো কিংবদন্তি মডেলদের স্বর্ণালি সময়ের কথা মনে রেখেছেন, তাদের কাছে কাইলিকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের জন্য বেছে নেওয়া নিজেদের পরিচিত ফ্যাশন-ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হতে পারে। মারলিনারসন বলেন, সব মিলিয়ে এটি বিপণনের এক নতুন যুগের প্রতিফলন। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো এখন আর ঝুঁকি নিতে চায় না। তারা এমন কাউকে সামনে আনতে চায়, যাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হবে, সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হবে এবং যিনি নিয়মিত দর্শক টানতে পারবেন। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ঠিক সেটিই করেছে।
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইনস্টাগ্রাম পেজে কাইলির নতুন সাজের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হলে মন্তব্যের ঘরে অনেক ভক্ত তার প্রশংসা করেন। তবে সমালোচনাও কম হয়নি। কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রকৃত মডেলদের প্রতি চরম অসম্মান’ বলে অভিহিত করেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তোলেন, প্রতিভাবান মডেলে ভরা একটি দল থাকতে কেন কাইলিকেই বেছে নেওয়া হলো? এক মন্তব্যকারী বলেন, এই ফ্যাশন শো একসময়ের ‘আইকনিক গ্ল্যামার’ থেকে এখন ‘ইনফ্লুয়েন্সারদের সার্কাসে’ পরিণত হয়েছে। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা এবং অন্তর্ভুক্তির প্রদর্শনমূলক প্রচেষ্টা প্রকৃত মডেলিং প্রতিভা, আভিজাত্য ও র্যাম্পে উপস্থিতির স্বতন্ত্র আকর্ষণকে ছাপিয়ে গেছে।
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান ভোগ ম্যাগাজিনকে বলেন, কাইলিকে বেছে নেওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো তার ব্যাপক সাংস্কৃতিক প্রভাব। তিনি বলেন, কাইলির প্রভাব ফ্যাশন, সংস্কৃতি কিংবা টেলিভিশনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের চেয়েও অনেক বেশি কিছু।
গয়না প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কোং-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ বছরের ফ্যান্টাসি ব্রাটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটিই এ পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এটি নির্মাণে ১৫ শিল্পী কাজ করেছেন এবং তাদের সময় লেগেছে এক হাজার ঘণ্টারও বেশি। মডেল সামার নেসবেথের মতে, এই ব্রাকে ঘিরে অতিরিক্ত মাতামাতি সমাজের বাস্তবতা থেকে আমাদের দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টিই তুলে ধরে। তিনি বলেন, মানুষ খাবার কিনে খেতে পারছে না, অনেকে ঘরের বিদ্যুতের বিল দেওয়ার সামর্থ্যও হারাচ্ছে। আমরা কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং কোথায় অর্থ ব্যয় করছি, তা নিয়ে ভাবার অনেক কিছু আছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা