প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০২৬ ১২:৫৪ পিএম
মোসা. আঁখি ও তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত তীব্র আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে গর্ভের সন্তানকে ভালো একটি পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়ার কথা ভাবছিলেন ২৪ বছর বয়সী মোসা. আঁখি। সংসারের অভাব-অনটন ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে প্ল্যাকার্ড হাতে সাহায্যও চান তিনি। গণমাধ্যমে আঁখির অসহায়ত্বের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন আঁখি। তবে, মাতৃত্বের আনন্দের বদলে চরম অর্থকষ্ট ও ঋণের বোঝা নিয়ে দিন কাটছিল তার। পরিস্থিতির চাপে একপর্যায়ে গর্ভের সন্তানকে অন্য একটি পরিবারের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ভাবেন তিনি। এ জন্য মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে সহায়তার আবেদন জানান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি গর্ভের সন্তানটি দান করতে চাই, ভালো একটি পরিবারে। আমি অসহায়, আমাকে সাহায্য করুন।’
আঁখির এই অসহায়ত্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে, তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে আঁখি ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত আঁখি ও তার পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঁখির স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। সেই ঋণ পরিশোধের অসহায় চেষ্টা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকেই গর্ভের সন্তানকে অন্য পরিবারের কাছে দেওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হন আঁখি।
পরিবারটির আর্থিক দুরবস্থার কথা জানার পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে তাদের হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় খরচ বহন এবং পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই উদ্যোগে চরম সংকটে থাকা পরিবারটির ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু