চামড়াজাত পণ্য রফতানি ২০ শতাংশ কমতে পারে

এমএকে জিলানী

অর্থনীতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-জাপান দুই পক্ষের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (বিজেইপিএ) স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিটি আগামী

2026-10-22T01:27:37+00:00
2026-10-22T01:27:37+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
অর্থনৈতিক চুক্তির সম্ভাবনা
চামড়াজাত পণ্য রফতানি ২০ শতাংশ কমতে পারে
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ এএম 
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-জাপান দুই পক্ষের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (বিজেইপিএ) স্বাক্ষর করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-জাপান দুই পক্ষের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (বিজেইপিএ) স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিটি আগামী বছরের প্রথমার্ধ থেকে কার্যকর হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফরে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। 

এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৪০০ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। তবে এই চুক্তি কার্যকর হলে জাপানের বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমতে পারে।

কূটনৈতিকক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বাংলাদেশ-জাপান সাত রাউন্ড আলোচনা করে চুক্তির টেক্সট চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু আলোচনা পর্বে বাংলাদেশের নেগোশিয়েশন দুর্বল হওয়ায় এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের (বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য) রফতানি কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমতে পারে। 

এই ২০ শতাংশ রফতানি পণ্য এই মুহূর্তে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত সুবিধার আওতায় জাপানের বাজারে রফতানি করছে। যা চুক্তি কার্যকর হলে শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। যার মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাপানের বাজারে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত যেসব পণ্য রফতানি করে তা প্রায় ১০ শতাংশ। জাপানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য নিয়ে বিশেষ সংবেদনশীলতা রয়েছে। যে কারণে জাপান কোনো দেশের সঙ্গেই বিজেইপিএ চুক্তির সময়ে এই ক্যাটাগরির পণ্যকে শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত সুবিধা দেয়নি।

চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আলোচনার টেবিলে ঢাকা টোকিওর কাছে বিজেইপিএ চুক্তি কার্যকর হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত সুবিধা হারাবে সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত সুবিধার প্রস্তাব করেছিল। এই পর্যায়ে ঢাকার কর্মকর্তারা দরকষাকষি করে টোকিওর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেই সুবিধা আদায় করতে পারেননি। 

তবে বাংলাদেশ আলোচনার টেবিলে বলেছে যে অংশীদারিত্ব সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে এসব পণ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে চায় এবং এই পর্যায়ে জাপানের কর্মকর্তারা তাতে সম্মতি দেন। জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া বিজেইপিএ চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং এই চুক্তি কার্যকর হলে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে (বিশেষ করে চামড়াজাত পণ্য) ১০ শতাংশ কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে কি না?


এ বিষয়ে দৈনিক সময়ের আলোর এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ইপিএ ওদের দেশের (জাপান) পার্লামেন্টে ওঠার কথা। এটি স্বাক্ষর হয়েছে, এখানে দুই দেশেরই অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া আছে। অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পন্ন হয়নি, সম্পন্ন হলে এটি কার্যকর হবে। আর আপনি যেটি বললেন যে পার্টিকুলার প্রোডাক্টের কথা, এটি তো আসলে একটা কমপ্রিহেনসিভ এগ্রিমেন্ট (বিস্তৃত চুক্তি), কোথাও যদি প্রোডাক্টের ডিসঅ্যাডভান্টেজ হয়, ডেফিনেটলি সেটি অন্য কোনো এনাদার পার্টিকুলার প্রোডাক্টের অ্যাডভান্টেজের বিনিময়ে করা হয়েছে। সুতরাং কমপ্রিহেনসিভলি দুই দেশই উপকৃত হবে। পার্টিকুলার সেক্টর উপকৃত হবে কি না এটি ইপিএ চালু হওয়ার পর আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে কোন কোন সেক্টর কী কী কারণে ডিসঅ্যাডভান্টেজ হচ্ছে। আমি মনে করি সেখানে পরবর্তী সময়ে আলোচনার সুযোগ আছে।

নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট অর্থনীতিবিদ, নীতি বিশ্লেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া বাংলাদেশের ইপিএ চুক্তি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা উচিত। আলোচনাধীন অন্যান্য সম্ভাব্য ইপিএ গুলোকে কীভাবে কৌশলবদ্ধ করা হবে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সরকারের উচিত জাপানের পেট্রোলিয়াম অনুরোধ বিবেচনা না করা। বিশেষ করে এলএনজি, কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনের অনুরোধ বিবেচনা করা উচিত নয়। বাংলাদেশের উচিত পরিষেবা বাণিজ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যার মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী দক্ষ অভিবাসন এবং পাশাপাশি ডিজিটাল পরিষেবা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই ৭৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে জাপান ১০৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বাংলাদেশ-জাপান বিজেইপিএর মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। 

এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধাও পাবে। সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে ৪টি মুডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এটিই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   চামড়াজাত পণ্য  রফতানি  অর্থনৈতিক চুক্তি 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: