পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে অস্থিরতা, কমছে অংশগ্রহণ

সময়ের আলো ডেস্ক

অর্থনীতি

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিকতা নেই। কোনো মাসে লেনদেন বাড়লেও পরের মাসেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে

2026-10-22T14:02:37+00:00
2026-10-22T14:02:37+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগে অস্থিরতা, কমছে অংশগ্রহণ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিকতা নেই। কোনো মাসে লেনদেন বাড়লেও পরের মাসেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ৬৬৩ কোটি টাকায় উঠেছিল। কিন্তু মে মাসে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭৪ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অক্টোবরের প্রথমার্ধেও লেনদেন কমেছে। এ সময়ে বিদেশিদের লেনদেন হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা, যা গত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধের ৩৪৬ কোটি টাকার তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম।

ডিএসইর পাক্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। লেনদেনে এমন ওঠানামার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহও ঋণাত্মক রয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের পরিমাণ বেশি। একই সঙ্গে ডিএসইর মোট লেনদেনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের হারও দীর্ঘ মেয়াদে কমেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৬৬৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এরপর মার্চে কমে ২৭২ কোটি এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি টাকায় নেমে আসে। মে মাসে লেনদেন আরও কমে দাঁড়ায় ৭৪ কোটি টাকায়। তবে জুনে তা বেড়ে ৫৪০ কোটি এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি টাকা হয়। আগস্টে লেনদেন কমে ৩১৯ কোটি টাকায় এলেও সেপ্টেম্বরে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮১ কোটি টাকা।

মাসভিত্তিক এই উত্থান-পতন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিকতার অভাব তুলে ধরছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১৩ মাসে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিদেশিদের লেনদেন হয়েছিল ৪৯১ কোটি টাকা। আগস্টে তা কমে ৩৭১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৪৪০ কোটি টাকা হলেও অক্টোবরে আবার কমে হয় ৩৬৮ কোটি টাকা। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে লেনদেন আরও কমে যথাক্রমে ২৬৭ কোটি ও ১৪৬ কোটি টাকায় নেমে আসে।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা।

শুধু শেয়ার লেনদেন নয়, পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহের চিত্রও ইতিবাচক নয়। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে দেশীয় ঋণ সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

ওই অর্থবছরে নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ ছিল ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ হাজার ৬০ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বহিঃপ্রবাহ আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

পরবর্তী অর্থবছর, ২০২৪-২৫ সালে নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ কমে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে কয়েক বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কমার প্রবণতা স্পষ্ট। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। ওই বছর এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।


২০১৭ সালে বিদেশিদের লেনদেন বেড়ে ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকায় দাঁড়ালেও মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণ কমে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যথাক্রমে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেন। ওই দুই বছরে মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৮ ও ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

কোভিড মহামারির বছর ২০২০ সালে বিদেশিদের লেনদেন বেড়ে ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়। ওই বছর ডিএসইর মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণ ছিল ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে পরের বছর থেকেই এ চিত্রে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২১ সালে মোট লেনদেনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে ১ দশমিক ১০ শতাংশে নেমে যায়। ওই বছর তাঁদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।

২০২২ ও ২০২৩ সালে বিদেশিদের অংশগ্রহণ আরও কমে। এ দুই বছরে ডিএসইর মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৮৯ ও শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ সময় লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা।

২০২৪ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে ডিএসইর মোট লেনদেনে তাঁদের অংশগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের ওঠানামার পেছনে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি, শেয়ারদরের প্রবণতা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে সাময়িক বৃদ্ধি দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা তাদের অংশগ্রহণে স্থিতিশীল প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে নিট বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ এবং ডিএসইর মোট লেনদেনে বিদেশিদের অংশগ্রহণের হার কম থাকা দেশের পুঁজিবাজারে তাদের সক্রিয়তা ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   পুঁজিবাজার  বিদেশি বিনিয়োগ  অস্থিরতা  অংশগ্রহণ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: