প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীতশখ করে বিষাক্ত গোখরা সাপ পুষতেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার জালে আটকে থাকা সাপটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। সাপটির জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা কাঠের বাক্স। নিয়মিত খাবার দিতেন মাছ ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন প্রাণী। তবে সেই শখের সাপের কামড়েই এখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল। এ সময় সাপটি তাকে কামড় দেয়। পরে তীব্র যন্ত্রণার কথা স্ত্রী রিনা আক্তারকে জানান তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা চলছে। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে মেরে ফেলেন বলে জানিয়েছেন ইকবালের স্ত্রী।
রিনা আক্তার বলেন, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনে তার স্বামীর শখ ছিল। কয়েক মাস আগে বিল থেকে সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। সাপ না পুষতে বারবার নিষেধ করলেও স্বামী তার কথা শোনেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল।
ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই সাপই তাকে কামড় দিয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাবিন ইশতিয়াক বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবালকে হাসপাতালে আনা হয়। তার হাত ফুলে গিয়েছিল এবং বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ ছিল। দ্রুত তাকে পর্যবেক্ষণে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তার অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা চলছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসক আরও বলেন, বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।
সময়ের আলো/এসএকে