ব্রহ্মপু‌ত্রের গর্ভে ফসলি জ‌মি, দিশেহারা কৃষক

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে ফসল হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কোথাও ধানে থোড় এসেছে, কোথাও ধান পাকতে শুরু

2026-10-22T18:14:13+00:00
2026-10-22T18:14:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ব্রহ্মপু‌ত্রের গর্ভে ফসলি জ‌মি, দিশেহারা কৃষক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম 
গত দুই দিনে এসব এলাকায় অন্তত ১০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রামে অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে ফসল হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কোথাও ধানে থোড় এসেছে, কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। এমন সময় ব্রহ্মপুত্রের পেটে যাচ্ছে একের পর এক সোনা ফলানো জমি। ফসল রক্ষার উপায় না পেয়ে আধাপাকা ধানগাছ কেটে নিচ্ছেন তাঁরা। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই দিনে এসব এলাকায় অন্তত ১০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলি জমি। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমের ফসলের পাশাপাশি জমিও হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা। 

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা রফিকুল বলেন, গত দুই দিনে হঠাৎ ভাঙন বেড়েছে। ধানগাছে থোড় এসেছে, এর মধ্যেই জমি ভাঙতে শুরু করেছে। আমার প্রায় দেড় একর জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। এখন উপায় না পেয়ে ধানগাছ কেটে নিচ্ছি।

একই এলাকার মোসলেম আলী ও শফি নাইয়া বলেন, ঋণ করে ধানের চারা কিনে রোপণ করেছেন তাঁরা। সার ও জ্বালানিতে খরচ হয়েছে অনেক টাকা। এই জমির ফসল বিক্রি করেই সংসার চলত। কিন্তু ধানের থোড় আসার সময় নদী তাদের সব শেষ করে দিচ্ছে। আগামী বছর খাওয়ার ধানও থাকবে না বলে আশঙ্কা তাঁদের।

এলাকাবাসীর দাবি, গত এক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কয়েক শ একর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়েছে। শৌলমারী ইউনিয়নের চারিপাড়া, বয়াতিপাড়া, শেখের বাজার ও চর খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বসতি এলাকাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা তন্ময় হাসান তোতা বলেন, গত এক বছরে তাদের প্রায় ৪০ একর আবাদি জমি নদীতে চলে গেছে। সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশের চর খেদাইমারীতে বস্তা ফেলা হলেও সুখেরবাতি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএইচএম সাইদুর রহমান বলেন, গত দুই দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের ব্যাপক ভাঙন চলছে। ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অল্প কিছু বস্তা ফেললেও সেগুলো নদে চলে যাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, অর্থসংকটের কারণে আপাতত চর প্রতিরক্ষায় কাজ করার সুযোগ নেই। মূল নদের তীর রক্ষায় তাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। 

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   ব্রহ্মপু‌ত্র  গর্ভে ফসলি জ‌মি  দিশেহারা কৃষক  নাগেশ্বরী  কুড়িগ্রাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: