সংগৃহীত ছবিফ্রান্সে সংঘটিত সহিংস দাঙ্গা এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। এক ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরিতে একাধিক বামপন্থি ও উগ্রপন্থি গোষ্ঠী একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করছে।
ফক্স নিউজের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক আসরা নোমানির করা ওই অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিক্ষোভের প্রচার ও সমন্বয়ের সঙ্গে নয়টি দেশের ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে। তিনি এই নেটওয়ার্ককে ‘রেড-গ্রিন প্রটেস্ট ইকোসিস্টেম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘গ্লোবাল কেওস ইনকরপোরেটেড গ্রোস টু ১০১ গ্রুপস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ (আইএপি)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের বার্তাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সংগঠনটি কাজ করছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনভিত্তিক প্রগতিশীল সামাজিক সংগঠন ‘দ্য পিপলস ফোরাম’-এর সঙ্গে আইএপির সরাসরি অংশীদারত্ব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ‘প্রোগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’-এর সাম্প্রতিক একটি ব্রিফিংয়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সংস্থাটি ফ্রান্স, স্পেন, ভারত ও আলবেনিয়ায় চলমান গণবিক্ষোভগুলোকে একই প্রেক্ষাপটে আলোচনা করে প্রশ্ন তোলে, ‘এই নতুন বিদ্রোহগুলো কি নিজেদের দাবি আদায়ে সুসংগঠিত শক্তিতে পরিণত হতে পারবে?’
নিবন্ধে বলা হয়েছে, সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোকে সমর্থন এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রোগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল। অন্যদিকে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম ও কমিউনিস্টপন্থি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইউরোপের এসব আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার ও সমর্থন পাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে ‘ব্রেক থ্রু নিউজ’, ‘কোড পিঙ্ক’ এবং ‘পার্টি ফর সোশালিজম অ্যান্ড লিবারেশন’-এর মতো সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাংহাইয়ে বসবাসকারী মার্কিন বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহাম এসব সংগঠনকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত সমর্থন দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে গত ১৪ অক্টোবর ব্রেক থ্রু নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিংহামের স্ত্রী ও কোড পিঙ্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা জোডি ইভানস বলেন, ‘আমি চাই মানুষ ফ্রান্স, স্পেন ও ভারতের আন্দোলনগুলোর দিকে তাকাক এবং প্রশ্ন করুক—আমরা কোথায় আছি? আমরা কেন রাস্তায় নামছি না?’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তথ্য পর্যবেক্ষণকারী ‘ডিসইনফো ল্যাব’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, প্যারিসভিত্তিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংবাদিক ও আইএপির সম্পাদক জয় ব্যানার্জি শ্রমিক সংগঠন ‘সিজিটি’র সাবেক প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব দাবি ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া ভারত ও ফ্রান্সের বিক্ষোভের মধ্যে সরাসরি সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ