প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সংগৃহীত ছবিফ্রান্সে রাস্তায় চলমান অস্থিরতা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিদেশি নেতা ‘স্টুপিড’ মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এদিকে চলতি সপ্তাহান্তে আরও বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিক্ষুব্ধরা।
কাতার সফরের সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, গত শনিবারের দাঙ্গার পর তথ্য নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে, এমনকি বিদেশি নেতাদের কাছ থেকেও এমন মন্তব্য এসেছে, যা একই সঙ্গে অগ্রহণযোগ্য ও স্টুপিড।
এসব মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে ম্যাক্রোঁ বলেন, অন্যদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নিজের রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য ‘অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টদের’ দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দোহার সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, এ অঞ্চলে কিংবা আটলান্টিকের অন্য পারে—নির্বাচনি প্রচারের মধ্যে থাকা কিছু নেতা সরলভাবে এমন সব বয়ান ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু মহল স্পষ্টতই ছড়াতে চাইছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য আমাদের দেশকে ব্যবহার করছেন। আর আমাদের এর প্রয়োজন নেই। আমাদের এমনিতেই মোকাবিলা করার মতো অনেক সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি এমন কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে ফ্রান্সে কখনো ঘটেনি—এমন ঘটনার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, অভিবাসী ও ইসলামপন্থিদের বিশাল ঢল আমাদের দেশে ঢুকে পড়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, ফ্রান্স ‘চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসনের’ শিকার হয়েছে। আগামী সপ্তাহান্তে তার দেশেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্লেষকরা অবশ্য ফ্রান্সের বিক্ষোভের জন্য অভিবাসীদের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করার দাবিগুলো নাকচ করেছেন।
নিজের উত্তরসূরি বেছে নিতে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে শুরু হওয়া সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ ও তার সরকার। গত শনিবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক দাঙ্গার সময় পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে স্বীকার করেছে সরকার।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ