সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসছেন কয়েকজন নারী। ছবি : আলজাজিরা সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন সৌদি নাগরিক, অন্যজন ভারতীয় প্রবাসী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিমানবন্দরটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে এবং বিমান চলাচলও আগের অবস্থায় ফিরেছে।
সৌদির তেল স্থাপনাতেও হামলা
এদিকে বুধবার সৌদি আরবের শাইবাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি প্রতিহত করার পর দুইজন নিহত হন বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারপন্থি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব হামলা হচ্ছে।
একাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
বৃহস্পতিবার হুতি গোষ্ঠী দাবি করেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
রয়টার্স ও এএফপির বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরামকো তাদের ধাহরানের সদর দফতর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতেও ওই এলাকায় হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরবে সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
এর আগে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সৌদি আরবে নিযুক্ত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকেও কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ