প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৭ পিএম
ইরান সীমান্তে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মহড়া। ছবি : অ্যাক্সিওস মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। দেশটিতে সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান সীমান্ত পর্যন্ত কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান নিয়ে যৌথ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের জ্বালানি খাত, পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোয় স্বল্প সময়ে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের।
গত সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই মহড়া পরিচালনা করে। এতে অংশ নেওয়া যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েল থেকে উড্ডয়নের পর সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ৮০০ মাইলেরও বেশি পথ অতিক্রম করে ইরান সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে সেগুলো নিরাপদ ঘাঁটিতে ফিরে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলোর এই উড্ডয়নপথ ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পিত পথের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এবার নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের লক্ষ্য, সামরিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে চাপে ফেলা এবং সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি অক্টোবরের শুরুতেই ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী ছিলেন না। ফলে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর হামলা চালানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপে থাকা নেতানিয়াহু ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারেন, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার সময়ও সামরিক অভিযান চালানোর উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ এবং উভচর রণতরি ‘ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড’ মোতায়েন করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য যৌথ হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কেটে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সমুদ্রের তলদেশে থাকা এসব কেবল বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এগুলো বিচ্ছিন্ন হলে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেন এবং ইন্টারনেটনির্ভর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর চেয়ে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ