বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিমতীরের হেবরনে বন্দুকধারীদের গুলিতে দেশটির দুই সেনা নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন সেনা। ইসরায়েলি

2026-10-23T22:40:37+00:00
2026-10-23T22:40:55+00:00
 
  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,
৭ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমতীরে গুলিতে ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত
বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম  আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ১০:৪০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিমতীরের হেবরনে বন্দুকধারীদের গুলিতে দেশটির দুই সেনা নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন সেনা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাল্টা গুলিতে দুই হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলার পর পশ্চিমতীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ১৯৬৭ সালের পর এমন বড় অভিযান আর চালানো হয়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই সেনা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান ও সার্জেন্ট ইউভাল শাই সিভলেম। তাঁরা সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। আহত তিন সেনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

যেভাবে হামলা হয়

এএফপির হেবরনভিত্তিক এক আলোকচিত্রী শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনের জন্য যাওয়ার পথে শহরের কাছে ফারশ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকিতে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হতে দেখেন। সেখানে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের গুলি বিনিময় হয়।

ওই দুই ফিলিস্তিনির কাছে একটি পিস্তল ও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল। একপর্যায়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে তাঁরা নিহত হন। এএফপির ওই আলোকচিত্রী একটি পেট্রোল পাম্পের পাশে তাঁদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আশপাশে ইসরায়েলি সেনারা টহল দিচ্ছিলেন।

পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হেবরনের কাছে ‘জুডিয়া জংশন’ এলাকায় সংঘর্ষে তাদের দুই সেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এর আগে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছিলেন, হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

হামলার পর ইসরায়েলি সেনাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সেনারা সম্ভাব্য একটি বড় হামলা ঠেকাতে পেরেছেন।

বাড়ি বাড়ি তল্লাশির পরিকল্পনা

হামলার পর পশ্চিমতীরে অবরুদ্ধ অবস্থা জারির নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী তৎপরতা ঠেকাতে সেনারা অভিযান জোরদার করেছেন এবং ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছেন।

পরে হেবরন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে আলোচনা করে পশ্চিমতীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অত্যন্ত বড় একটি অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছে। ১৯৬৭ সালের পর এমন অভিযান আর চালানো হয়নি।’

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পশ্চিমতীর দখল করে ইসরায়েল।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ অভিযান চালাতে প্রস্তুত। কখন অভিযান শুরু হবে, তা ঠিক করা হবে। তবে অভিযানটি চালানো হবে।

তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে সেনারা হামলাকারীদের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেবেন। এরপর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে।

নেতানিয়াহু জানান, পশ্চিমতীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে আগে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, এবারও তা অনুসরণ করা হতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওই শরণার্থীশিবিরগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটল। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার নেতানিয়াহু তাঁর লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করার নির্দেশ দেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হেবরন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। হামলায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পাশাপাশি অন্যদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

গাজার মতো অভিযান চায় কট্টর ডানপন্থিরা

নেতানিয়াহুর ঘোষণার আগেই পশ্চিমতীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ।

তিনি বলেন, গাজার মতো অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তাঁর মতে, এ অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়া, অস্ত্র জব্দ করা এবং সশস্ত্র ব্যক্তিদের নির্মূল করা প্রয়োজন।

স্মোতরিচ আরও জানান, হামলাস্থলের আশপাশে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকার আরব স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন-গভিরও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে, নিরস্ত্র করতে হবে এবং তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।

তবে শুক্রবারের হামলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিদের সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এই কর্তৃপক্ষ।

হামলার প্রশংসা হামাসের

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ওই হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়।

শুক্রবার হেবরনে বন্দুকধারীদের হামলার প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে নিহত দুই হামলাকারীর জন্য শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাসীন ফাতাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে হামাসের বিরোধ রয়েছে। হামাস শুক্রবারের হামলাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ ও হামলার ‘স্বাভাবিক ও বৈধ প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।

সংগঠনটি সমর্থকদের আরও সংগঠিত হওয়ার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

পশ্চিমতীরে বাড়ছে উত্তেজনা

পশ্চিমতীরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনি জলপাইচাষিদের ওপর উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির তৈরি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১ হাজার ১১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের দাবি, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা কিংবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

সূত্র : এএফপি

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   নেতানিয়াহু  পশ্চিমতীর  গুলি  ইসরায়েল  সেনা  নিহত 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: