পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার। ছবি : সংগৃহীত মঞ্চে বসে আছেন ইউএনও, থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতা। বক্তব্য রাখছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। বক্তব্য চলাকালে থানার ওসি চুপচাপ বসে থাকলেও মুহুর্মুহু হাততালি দিয়ে এমপির বক্তব্যকে সমর্থন জানাতে থাকেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার। এক মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে নেট দুনিয়ায়। এ বিষয়ে মতামত জানতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকরা ওই ইউএনওকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘লিখে দেন, ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ, আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে।’
সম্প্রতি পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। একটি পূজামণ্ডপে বক্তব্যে প্রদানকালে এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাকে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আবারও বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। আপনারা সবাই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’
ওই বক্তব্যের সময় মঞ্চে এমপির পাশে বসা পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদারকে সবার আগে হাততালি দিতে দেখা যায়। পুরো বক্তব্য জুড়েই এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যকেও সমর্থন জানিয়ে তিনি মুহুর্মুহু করতালি দিয়েছেন। ইউএনও সাথে অন্যান্যরা করতালি দিলেও থানার ওসি করতালিতে অংশ নেননি। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বক্তব্যে এভাবে প্রকাশ্যে করতালি দেওয়ার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, ‘লিখে দেন, এমপির সাথে ইউএনও নির্বাচনী প্রচারণায়। আপনি শোনেন, এভাবে বলেন, যে ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ, ঠিক আছে?। নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, যে সরকার থাকত, যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল। আমার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শ। তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারাদেশে। আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে।’
ইউএনও আরও বলেন, এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই। পরিষদের আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সব কাজ মাননীয় সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। চিঠি আছে আমার কাছে, দেখবেন আপনি?
সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন? যেখানে এমপি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজনকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেখানে ইউএনও অতিউৎসাহী হয়ে সবার আগে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ফেসবুকে অনেকেই সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন লিখেছেন, যেখানে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্যে উৎসাহ নিয়ে তালি দেন, সেখানে এমন ইউএনও থাকলে আগামী কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, প্রশাসনের যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষতার জন্য কার কাছে ভরসা রাখবে?
সময়ের আলো/এনএন