প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীতউৎসবের ঘোর এখনও পুরোপুরি কাটেনি। প্রতিবারই দুর্গাপূজা শেষের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আগামী বছরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। তবে এবারের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা। কারণ ২০২৮ সালে একই বছরে দুবার আয়োজিত হতে পারে শারদীয় দুর্গোৎসব।
পঞ্জিকা গণনার নিয়ম ও পদ্ধতির ভিন্নতার সুবাদে প্রায় পনেরো দিনের ব্যবধানে দুই দফায় দেবী বন্দনায় মাতবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাটি নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালে জোড়া সপ্তমী এবং ২০২৭ সালে জোড়া মহাঅষ্টমীর ধারাবাহিকতায় ২০২৮ সালে তিথিগত পার্থক্যের জেরে দুই বার অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা।
শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় প্রধানত দুটি ভিন্ন পদ্ধতি মেনে দুর্গোৎসবের লগ্ন নির্ধারণ করা হয়। এর একটি হলো 'বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত' এবং অপরটি 'সূর্য সিদ্ধান্ত'।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তে মূলত দৃকসিদ্ধ গণনাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্তে মহাজাগতিক বিভিন্ন অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তিথি ও নক্ষত্রের হিসাব করা হয়। এই দুই পদ্ধতির হিসাবের ফারাকের কারণেই ২০২৮ সালে পূজার দিনক্ষণ এক হবে না।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করলে ২০২৮ সালের পূজা উদযাপিত হবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। আর সূর্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূজার আয়োজন করা হলে তা গড়াবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে দুই দফার পূজার মাঝে ব্যবধান থাকবে পনেরো দিনেরও বেশি।
সাধারণত বেলুড় মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো নামকরা মঠ, মন্দির ও আশ্রমে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মেনে পূজা সম্পন্ন করা হয়। এর বিপরীতে বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি এবং সর্বজনীন পূজোগুলোতে সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণের চল রয়েছে।
তবে এক বছরে দুইবার দুর্গাপূজার এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এক পঞ্জিকাবর্ষে দুইবার দুর্গাপূজা হওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর পূর্বে ১৯৮০ সালেও এই দুই পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে দুই আলাদা সময়ে দেবীর আরাধনা করা হয়েছিল। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, দুটি পন্থার যেকোনোটিতেই পূজার আয়োজন করা সম্পূর্ণ শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য।
এদিকে, একই বছরে দুইবার পূজা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারি ছুটির ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকবে কিনা তা নিয়েও চলছে জল্পনা কল্পনা।
সময়ের আলো/আতা