বেনামাজি বন্ধু কি জাহান্নামে যাবে, কী বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

ক্যাম্পাসে এমন অনেক বন্ধু আছেন, যারা নামাজ পড়েন না, তবে সততা, সদাচরণ ও পরোপকারের মতো গুণে গুণান্বিত। তাদের কেউ যদি

2026-10-25T07:03:29+00:00
2026-10-25T07:03:29+00:00
 
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
বেনামাজি বন্ধু কি জাহান্নামে যাবে, কী বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৩ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ক্যাম্পাসে এমন অনেক বন্ধু আছেন, যারা নামাজ পড়েন না, তবে সততা, সদাচরণ ও পরোপকারের মতো গুণে গুণান্বিত। তাদের কেউ যদি ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই তো এত ধর্ম মানিস, বল তো, আমি কি জাহান্নামে যাব?’—তখন কীভাবে উত্তর দেওয়া উচিত? সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে এমন প্রশ্নের জবাব কীভাবে দেওয়া যায়?

সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার মতে, কেউ নামাজ না পড়লেও তার ভালো গুণগুলোর স্বীকৃতি দিতে হবে। মানুষের ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ বজায় রাখা ইসলামের শিক্ষার অংশ। এর মধ্য দিয়েই তাকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তি দ্বীনের অনুশীলনে পিছিয়ে থাকলেও তিনি যদি সৎ, সত্যবাদী, সুন্দর আচরণের অধিকারী ও পরোপকারী হন, তাহলে তার এসব গুণের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করা উচিত নয়। বরং ভালো কাজকে ভালো বলার মানসিকতা একজন মুমিনের থাকা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আহলে কিতাবের মধ্যেও এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের কাছে আমানত রাখলে তারা তা যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেন। অর্থাৎ, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও সততা ও উত্তম গুণাবলি থাকতে পারে, যার স্বীকৃতি কোরআনেও দেওয়া হয়েছে। তাই কোনো বন্ধু নামাজ না পড়লেও তার ভালো গুণগুলোকে অস্বীকার করা উচিত নয়।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বন্ধুর ভালো কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি তাকে বোঝানো যেতে পারে, মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা, লেনদেনে সৎ থাকা এবং অন্যের উপকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এসব গুণের স্বীকৃতি দিয়ে তাকে দ্বীনের পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা উচিত।

তবে কেউ নামাজ পড়েন না বলে তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সৌজন্য দেখাতে অস্বীকৃতি জানানোর শিক্ষা ইসলাম দেয়নি। বরং আদর্শের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখে মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ বজায় রাখতে হবে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কেউ নামাজ পড়ছেন বলেই তার জান্নাতে যাওয়া নিশ্চিত—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। কে জান্নাতে যাবেন আর কে জাহান্নামে যাবেন, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।


তিনি বলেন, নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কেউ যদি মানুষকে ঠকান, মিথ্যা বলেন, প্রতারণা করেন কিংবা অবৈধ উপার্জন করেন, তাহলে শুধু নামাজ আদায় করাকেই জান্নাতের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। একইভাবে, বর্তমানে যিনি দ্বীন পালনে পিছিয়ে আছেন, তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষের জীবনের শেষ পরিণতি কী হবে, তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়।

তাই কোনো বেনামাজি বন্ধু যদি জানতে চান, তিনি জাহান্নামে যাবেন কি না, তখন তাকে বলা যেতে পারে—তোমার জান্নাতে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ার অধিকার আমার নেই। আমিও নামাজ পড়ি বলে আমার জান্নাতে যাওয়া নিশ্চিত নয়। বরং আমাদের সবার উচিত নিজেদের সংশোধন করা এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসার চেষ্টা করা।

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, দ্বীনের অনুশীলনে পিছিয়ে থাকা মানুষের সঙ্গেও দাওয়াতের উদ্দেশ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বিশ্বাস ও আদর্শের বিষয়ে নিজের অবস্থান অটুট রেখেও সামাজিক আচরণে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে হবে।

মানুষের ভালো গুণের স্বীকৃতি দেওয়া, তার সঙ্গে সদাচরণ করা এবং আন্তরিকভাবে সত্যের পথে আহ্বান জানানো—এসবের মাধ্যমে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হতে পারে। কাউকে অবজ্ঞা বা অপমান না করে ভালোবাসা, সৌজন্য ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোই হওয়া উচিত একজন মুমিনের লক্ষ্য।

সূত্র : শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   বেনামাজি  বন্ধু  জাহান্নাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: