প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ৮২টি নৌকার ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও ছাপার কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় এবার আর সেগুলো সংশোধন করা যাচ্ছে না। তবে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে বিতর্কের পর সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবইয়ের ছবি নিয়ে বিতর্কের পর মুদ্রণ কার্যক্রম সংশোধন ও করণীয় নির্ধারণে শনিবার দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
২০২৭ সালের জন্য মুদ্রিত প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব ছবির অনেকগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঠের সরাসরি যোগসূত্র নেই।
যেমন প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হয়’ বাক্যের সঙ্গে নৌকার ছবি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘ভোর হলো’ কবিতা এবং ‘আমাদের দেশ’ সম্পর্কিত আলোচনাতেও নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়েও ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতা, ‘আজিকার শিশু’ কবিতা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তালগাছ’ কবিতার মতো পাঠে নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে। তবে এনসিটিবির দাবি, নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, আইসিটি বইয়ের মোট ৩৮ লাখ কপির মধ্যে ১৮ লাখ স্কুল পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে, বাকি ২০ লাখ ছাপার কাজ চলছে। সরবরাহ করা বই ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করে নতুন পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বইয়ের ছবি বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পীরা এঁকেছেন। কনটেন্ট পরিবর্তন না হলে ছবি পরিবর্তন করা কঠিন।
তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় পরিবর্তন আনা হবে। তখন এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/টিকে