আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংগৃহীত ছবি প্রয়াত হয়েছেন ৩৩ বছর আগে। অথচ আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আবারও যেন ফিরে এলেন আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দ। তার হলোগ্রাফিক অবতার বা ‘হলোবটের’ সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু কথোপকথনই নয়, ওই অবতারের কাছে নিজের ভবিষ্যৎ কাজের জন্য আশীর্বাদও চেয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনে’ এ ঘটনা ঘটে। স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতারটি তৈরি করেছে চিন্ময় মিশন।
অনুষ্ঠানে হলোবটের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মোদি বলেন, চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল, যা তার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। বর্তমানে যেসব কাজ তিনি করতে চান, সেগুলোর জন্যও গুরুর আশীর্বাদ কামনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। জবাবে চিন্ময়ানন্দের ডিজিটাল অবতার তাকে আশীর্বাদ করে।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ১৯৯৩ সালে মোদির সঙ্গে হওয়া সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরে হলোবট। ওই বছর শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য স্বামী চিন্ময়ানন্দকে আমন্ত্রণ জানাতে গুজরাটের ভদোদরায় গিয়েছিলেন মোদি।
সেই ঘটনার উল্লেখ করে হলোবট জানায়, বয়সের কারণে এত বড় দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় বলে চিন্ময়ানন্দ তখন জানিয়েছিলেন। তার পরিবর্তে অন্য হিন্দু তরুণদের এগিয়ে আসার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি।
এরপর মোদিকে উদ্দেশ করে ডিজিটাল অবতারটি বলে, ১৯৯৩ সালে যার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল, সেই ব্যক্তিই আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে দায়িত্বের শীর্ষে থাকা মানুষের একাকিত্বের বিষয়েও মোদিকে সতর্ক করে দেয় হলোবট। কথোপকথনে শ্রীখণ্ড খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের মানুষ তার পাশে রয়েছে বলেও মন্তব্য করে এটি।
এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার জন্য চিন্ময় মিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি। তার ভাষ্য, হলোবটের সঙ্গে কথা বলার সময় এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হয়েছিল, তিনি যেন অতীতে ফিরে গেছেন।
কী এই হলোবট?
হলোবট হলো হলোগ্রাফিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি কোনো ব্যক্তির ত্রিমাত্রিক অবয়ব, যা দেখতে অনেকটা বাস্তবে সামনে বসে থাকা মানুষের মতো। ভিডিও, কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গির সমন্বয়ে এই অবতারকে কথা বলতে এবং নড়াচড়া করতে দেখা যায়। আগে থেকে ধারণ করা কণ্ঠস্বরের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
প্রযুক্তির এই প্রয়োগের মাধ্যমে প্রয়াত ব্যক্তিদের উপস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। চিন্ময়ানন্দের হলোবটের সঙ্গে মোদির কথোপকথনও তারই একটি উদাহরণ।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ