জর্ডানে প্রাণঘাতী গির্জায় হামলার নেপথ্যে কারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের একটি গির্জায় জানাজা চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। শুক্রবার

2026-10-25T20:30:06+00:00
2026-10-25T20:30:06+00:00
 
  রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
জর্ডানে প্রাণঘাতী গির্জায় হামলার নেপথ্যে কারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ পিএম 
জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় আগের দিন জানাজা চলাকালে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। হামলার পর গির্জাটির একটি জানালার ভাঙা অংশের দৃশ্য। ছবি : রয়টার্স
জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের একটি গির্জায় জানাজা চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে হামুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত তিন বন্দুকধারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে জর্ডানের কর্তৃপক্ষ। দেশটির বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

যেভাবে হামলা চালানো হয় 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে গির্জায় জানাজার অনুষ্ঠান চলার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর একটি গাড়িতে করে আসা দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে যোগ দেয় আরেকজন। তাঁদের একজনের হাতে ছিল আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। পরে তিনজন গির্জায় ঢুকে কয়েক মিনিট ধরে গুলি চালান।

হামলার সময় সেখানে উপস্থিত আইনজীবী নাসের আল-বুরকান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, এক বন্দুকধারী তাঁর কাছ থেকে প্রায় দুই মিটার দূরে দাঁড়িয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তিনি দুজন হামলাকারীকে দেখতে পান। তাঁদের একজনের মুখ ঢাকা ছিল, অন্যজনের মুখ খোলা ছিল এবং তাঁর হাতে একটি পিস্তল ছিল।

পরে আল-বুরকানের ছেলে ফোন করে জানান, তার পায়েও গুলি লেগেছে এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

হামলায় আহত এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে যাওয়া তারেক আম্মারিন ঘটনাটিকে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেন।

কারাকের শিহান গ্রামের মেয়র বাহজাত আল-রুশদাও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জর্ডান শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দেশ হিসেবে থাকবে। 

নিহত ৮, হাসপাতালে এখনও ২৭ 

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে আহত এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় আটে।

হামলায় আহত ৪০ জনের মধ্যে ২৭ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারাকের প্রিন্স আলী সামরিক হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অস্ত্রোপচারের পরও তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

কারা হামলা চালিয়েছে, জানা যায়নি    

হামলায় জড়িত তিন ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি জর্ডানের কর্তৃপক্ষ। সরকারি বিবৃতিতে তাঁদের অজ্ঞাত হামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মামলাকায় প্রচারিত ভিডিওতে তিনজনকে গির্জার বাইরে গুলি চালিয়ে প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে ভবনের বাইরে পালানোর চেষ্টা করা একদল পুরুষের দিকে গুলি চালাতেও দেখা যায় হামলাকারীদের।

জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিন আল-ফারায়েহ হামলাকারীদের চরমপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।


হামলার উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট 

জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান বলেছেন, সন্ত্রাসী মতাদর্শ ও উগ্রপন্থার প্রভাবেই এ হামলা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় গির্জাটিকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কারাক গভর্নরেট রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। অঞ্চলটিতে জর্ডানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিষ্টান বসবাস করেন। প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা আনুমানিক তিন লাখ।

ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরের জ্যেষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদদাতা টেলর লাক আল-জাজিরাকে বলেন, জর্ডানের খ্রিষ্টানরা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিয়ে গর্ববোধ করেন। কারাকে মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন।

তার মতে, সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির উদ্দেশ্যে হামলাটি চালানো হয়ে থাকলে এর বিপরীতে স্থানীয় মানুষের ঐক্য আরও দৃঢ় হতে পারে।

তিন দিনের শোক ঘোষণা

হামলার ঘটনায় আজারবাইজান, ইরাক, পোল্যান্ড, ফিলিস্তিন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে এবং জর্ডানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

মিসরের কায়রোভিত্তিক প্রভাবশালী সুন্নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমদ আল-তাইয়েব নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি হামলাটিকে নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন।

জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী। শোক চলাকালে সরকারি ও জনসাধারণের বিভিন্ন ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

জর্ডানে আগেও প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে  

জর্ডানে ধর্মীয় স্থাপনায় এ ধরনের হামলা বিরল হলেও অতীতে দেশটিতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

২০১৬ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস) কারাকসহ জর্ডানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। ওই বছর কারাকের ক্রুসেডার আমলের একটি দুর্গে অবরোধ ও হামলায় কানাডার এক পর্যটক এবং সাত পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।

পরে দীর্ঘ সংঘর্ষের পর জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে চার হামলাকারী নিহত হন।

এবারের হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী।

সূত্র : আল-জাজিরা 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   জর্ডান  গির্জা  বন্দুকধারী  হামলা  নেপথ্য 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: