প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পিএম আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ২:৪১ পিএম
সংগৃহীত ছবি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সত্যনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ফয়েজ আহমেদের মতো সাংবাদিকেরা সত্যনিষ্ঠা, নীতিবোধ ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এরশাদের শাসনামলে দেশের মানুষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ঘটনার খবর জানতে বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার ওপর নির্ভর করতেন। ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং বিবিসির সাংবাদিক আতাউস সামাদের সংবাদ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। তাঁদের কণ্ঠে দেশের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির খবর শুনতেন সাধারণ মানুষ।
তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছিল। এমন পরিস্থিতিতেও গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহসের সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখেন। নিরাপত্তার কারণে তাঁকে কোথা থেকে সংবাদ পাঠাচ্ছেন, তা গোপন রাখতে হতো। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাঁর সাহস ও নিষ্ঠা তাঁকে মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সে সময়ের অনেক সাংবাদিক নীতিবোধ ও আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। তাঁদের প্রভাবিত করার নানা চেষ্টা সত্ত্বেও অনেকে সত্য প্রকাশের অবস্থান থেকে সরে যাননি। বর্তমান সময়েও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তাঁদের আদর্শ ও পেশাগত নিষ্ঠা অনুসরণ করা জরুরি।
গিয়াস কামাল চৌধুরীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়াস কামাল চৌধুরীর বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা এবং তরুণদের প্রতি স্নেহশীল আচরণ তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রয়াত সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রুহুল কবির রিজভী।
সময়ের আলো/এসকে/টিকে